মরহুম ইসহাক চৌধুরী আলীম ছিলেন দলের ত্যাগী,কর্মী বান্ধব নেতা:-আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ইসমাইল ইমন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ইসহাক চৌধুরী আলিমের অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছিল আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টের। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী ও নিবেদিত প্রাণ নেতা। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করে তিনি নিজেকে মহানগর বিএনপির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ইসহাক চৌধুরী আলিম একজন কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন। কর্মীদের ডাকে সব সময় সাড়া দিয়েছেন তিনি। কোন কর্মীর যে কোন প্রয়োজনে তিনি সবার আগে এগিয়ে যেতেন। মৃত্যুর পর তার জানাযায় প্রচুর মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে তিনি কতটা মানুষের হৃদয়ে ছিলেন। তিনি সবার হৃদয় জয় করা একজন নেতা ছিলেন। ইসহাক চৌধুরী আলীম চট্টগ্রামের রাজনীতিতে চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবেন।
তিনি মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) বাদে আসর দক্ষিণ বাকলিয়া মিয়াখান নগরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ইসহাক চৌধুরী আলিমের মৃত্যুতে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
দোয়া মাহফিল শেষে তিনি মরহুম ইসহাক চৌধুরী আলিম ও করোনায় মৃত্যুবরনকারী বাকলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মরহুম আফতাবুর রহমান শাহীনের বাসভবনে গিয়ে তাদের পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং খোজ খবর নেন। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা মোশারফ হোসেন।
এসময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে আলীম-শাহীন যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা বিএনপির নেতাকর্মীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। তারা শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শে আস্থাশীল হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে যে অবদান রেখেছেন নেতাকর্মীরা তা কোনোদিন ভুলবে না। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। তারাও তাদের রাজনৈতিক কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন। দলের প্রতি তাদের অবদানকে আমরা আজীবন স্মরণে রাখবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মরহুম আলীম ও শাহীন চট্টগ্রামে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই নেতা ও তাদের পরিবারকে সইতে হয়েছে সরকারি নানা শারীরিক ও মানসিক জুলুম নির্যাতন। বিএনপির রাজনীতিতে তারা সকল ধরণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন। তারা দুজনই ছিলেন ত্যাগী, সৎ ও সাহসী নেতা। বাকলিয়া থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেক্রেটারি থাকাকালীন তারা জুটি হিসেবে কাজ করেছেন। আলীম-শাহীন অমায়িক আচরণের অধিকারী ছিলেন। এজন্য তারা দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিকট ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তাঁদের সংগ্রামী ভূমিকার জন্য তারা দলের নেতাকর্মীর কাছে আজীবন বেঁচে থাকবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, মরহুম আলীম ও শাহীন ওয়ান ইলেভেনের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের মত যোগ্য নেতার খুবই প্রয়োজন ছিল। তাই তারা আমাদের মাঝে না থাকলেও তাদের আদর্শকে ধারণ করে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হাজী নবাব খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী নাজিমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সি. যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, বিএনপি নেতা সাবেক কাউন্সিলর ইয়াসিন চৌধুরী আসু। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক ধর্ম সম্পাদক হাজী নুরুল আকতার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক এম আই চৌধুরী মামুন, সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস চৌধুরী হাকিম, সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক নকিব উদ্দিন ভূইয়া, বিএনপি নেতা এস এম সেলিম, এস এম মুফিজ উল্লাহ, এটিএম ফরিদ, হাজী মো. ইউনুস, সৈয়দ তানভীর আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সি. যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, আসাদুর রহমান টিপু, বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান খান, নসু খান, আবদুল মান্নান, আজাদ খান, যুবদল নেতা সানাউল কাদের চৌধুরী সানী, শাহজাহান স্বপন প্রমূখ।
এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -