মাথায়-পেটে টিউমার, রিকশা চালিয়ে জীবন চালান ৬৬ বছরের মোস্তাফিজ

0
11

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

মাথায় ও পেটে একটি করে মোট দুটি টিউমার। ৬৬ বছর বয়সেও পরের রিকশা চালিয়ে জীবন চালান চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান। ভাড়ার রিকশার প্যাডেল চাপিয়ে বিয়ে দিয়েছেন চার মেয়ের। তাদের বিয়ের সময় গ্রহণ করা ঋণ পরিশোধের এখনও বাকি ৬৭ হাজার। তবে তার দুটি ছেলে থাকলেও বাবার কোনো খোঁজ নেন না। তাইতো জীবনসায়াহ্নে এসেও অসুস্থ শরীর নিয়েও বের হয়েছেন জীবিকার উদ্দেশ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে অনেকটা ক্লান্ত এই রিকশাচালককে দেখা যায় নগরের ২ নম্বর গেট মোড়ের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনের গলিতে। সেখানে রিকশার ওপর বসে থেকে প্রতিবেদকের কাছ থেকে কিছু খেতে চান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে বিস্তারিত জানা যায়।

রিকশাচালক মোস্তাফিজ জানান, তার বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায়। ১৭ বছর আগে মেঘনা নদীর ভাঙনে হারিয়েছেন নিজের বাড়ি। এরপর থেকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার রসুলবাগ এলাকায় বসবাস করেন তিনি। অল্প টাকার ভাড়া বাসা নিয়ে পরের রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোমতে চলতো তার সংসার।

কিন্তু এখন বার্ধক্যের কারণে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে শরীর। দানা বেঁধেছে নানা রোগব্যাধি। মাথায় ও পেটে দুটি টিউমার। যেখানে দুমুঠো খাবার জোগাড় করা নিত্যদিনের সংগ্রাম, সেখানে চিকিৎসার কথা চিন্তাও করবে কেমনে? অসুস্থ এই শরীর নিয়ে প্রতিদিন পরের রিকশা নিয়ে বের হন তিনি। যা আয় হয় তা থেকে ১০০ টাকা রিকশা মালিককে দিয়ে দিতে হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার অসুস্থতার কারণে তেমন রিকশা চালাতে পারেননি। কয়েকটা ট্রিপ মেরেই ক্লান্ত হয়ে যান তিনি। শরীর আর সায় না দেয়ায় দাঁড়িয়ে আছেন ২ নম্বর গেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনে। কয়েকটা ট্রিপে ভাড়া পেয়েছেন ১৫৫ টাকা। এখান থেকে রিকশামালিককে দিতে হবে ১০০ টাকা। হাতে থাকবে ৫৫ টাকা। এদিকে বাড়িতে নেই চাল। এই টাকা দিয়ে যদি নাস্তা করেন, তবে চাল কিনবেন কেমনে। এ জন্য ক্ষুধার যন্ত্রণায় থাকতে না পেরে আরেকজনের কাছ থেকে কিছু নাশতা করতে চান তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিকশাচালক মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমার জীবন শেষ। মরণ কেমনে হবে জানি না। মরণের আগের দিন পর্যন্ত আরেকজনের রিকশা চালিয়ে চলতে হবে। তাও খারাপ হতো না। চারটি মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে বেশ কিছু ঋণ করেছি। এ টাকা কেমনে শোধ করব কেমনে এ চিন্তায় আছি। আমার নিজের একটা রিকশা থাকতো, তবে কিছু টাকা বাঁচিয়ে ঋণ শোধ করতে পারতাম।’

এতবছর রিকশা চালিয়েও নতুন একটি কিনতে পারেননি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার-চারটি মেয়ে বিয়ে দিছি। কেমনে দিছি জানি না। ঋণের বোঝায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারিনি। নতুন রিকশা কিনব কেমনে?’

রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নিজের বা পরিবারের কারও কোনো মোবাইলফোন নেই। তবে এই নম্বরে ০১৮৭২৪৩১৮০২ যোগাযোগ করলে পাওয়া যাবে তাকে।