মাদকসহ ধরা পড়ার ভয়ে এএসআই লিটনকে চাপা দেন ঘাতক

0
14

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশান চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়াকে গাড়িচাপা দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ভিডিওতে সহকারী লিটনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার নির্মম চিত্র ধরা পড়েছে।

সোমবার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেকপোস্টের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

ভিডিও দেখা যায়, গত ৪ জুলাই রাতে গুলশান শুটিং ক্লাবের বিপরীত পাশে অবস্থিত পুলিশ চেকপোস্টের দায়িত্বরত ছিলেন এএসআই লিটন মিয়া। রাত ১টা ৪৯ মিনিটে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে চেকপোস্টের দিকে এগোতে থাকে। দ্রুতগতিতে প্রাইভেটকারটিকে আসতে দেখে এএসআই লিটন মিয়া চেকপোস্টের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। এ সময় তিনি গাড়িটিকে থামার সংকেত দেন। কিন্তু চালক তাওহিদুল‌ সংকেত অমান্য করে লিটন মিয়ার ওপরে গাড়িটি উঠিয়ে দেন। এতে লিটন মিয়া গাড়িটির বোনেটের ওপর পরে গিয়ে আটকে যান। এ সময় চেকপোস্টে অবস্থানরত অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেও গাড়িকে তারা ধরতে পারেনি। গাড়িটি দ্রুত গতিতে গুলশান চেকপোস্ট থেকে তেজগাঁও এলাকার দিকে চলে যায়।

ওই রাতের আরেকটি সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সামনে গাড়িটিকে স্থানীয় জনতা ঘিরে রাখে। তখনও গাড়িটির বোনেটের ওপর পরে ছিল এএসআই লিটন।

এদিকে এ ঘটনায় হওয়া মামলার প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটিতে তাওহিদুল‌ মাদক বহন করছিলেন। ওই সময় গাড়িতে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩০ ক্যান বিয়ার ও ৪ বোতল বিদেশি মদ ছিল। মাদকসহ চেকপোস্টে ধরা পরার ভয়ে পুলিশের সংকেত অমান্য করে এএসআই লিটনকে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যান চালক।

এ বিষয়ে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার পরের দিন গুলশান থানা এলাকায় আমরা একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলাম। অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবা, ৪৮ ক্যান বিয়ার ও ৪ বোতল বিদেশি মদসহ তাওহিদুল‌ ও প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখি এই গাড়িটির নাম্বার ৪ তারিখের ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়ির নাম্বারের সঙ্গে মিলে গেছে।

তিনি বলেন, তাওহিদুল‌কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ওই রাতে গাড়িতে ৬০ পিস ইয়াবা, ৩০ ক্যান বিয়ার ও ৪ বোতল বিদেশি মদসহ গুলশান চেকপোস্টে পাড় হতে চেয়েছিলেন তাওহিদুল। কিন্তু চেকপোস্টে এএসআই লিটন মিয়ার সংকেত দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। তাই পুলিশের কাছে মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়া এড়াতে লিটন মিয়াকে গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যান। তবে বোনেটের ওপরে লিটন মিয়া আটকে যাওয়ায় তাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সামনে নিয়ে যান। পরে সুবিধা মতো ওইখানে এএসআই লিটনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে গত রোববার (১১ জুলাই) পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি-গুলশান জোন) নাজমুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৪ জুলাই রাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে গুলশান-১ নম্বরে শুটিং ক্লাবের বিপরীতে এ সম চেকপোস্ট কর্মরত ছিলেন এএসআই লিটন মিয়া।য় একটি গাড়িকে পোস্টের সামনে দিয়ে দ্রুতগতিতে আসছে দেখে গাড়িটিকে থামার সিগনাল দেন লিটন। তবে গাড়িচালক গাড়িটি না থামিয়ে লিটন মিয়াকে ধাক্কা দেন। লিটন গাড়ির বোনেটের ওপর পড়েছিল। বোনেটের ওপর লিটনকে নিয়েই গাড়ি চালিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে যায় ওই চালক। পরের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এএসআই লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।

উল্লেখ, পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেন এএসআই লিটন মিয়াকে। সেখানে সাতদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে গত রোববার (১১ জুলাই) দুপুরে মারা যান লিটন মিয়া। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।