মুক্তিযোদ্ধা ফার্নিচার মার্টের সত্ত্বাধিকারী নাজিম উদ্দিনের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট।

0
21

কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। ছিনিয়ে নিয়ে গেছে নগদ ৪২৭৩০টাকাসহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র।

বুধবার (৯জুন) বিকালে স্থানীয় চাতলাঘাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহাগ মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিনের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ও ব্যবহৃত সানগ্লাসসহ জরুরি কাগজপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায় কথিত জব্বার গ্রুপের সদস্য

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ, আজমল আলী, খলিল, আমির, বাচ্চু, সাদ মিয়া জব্বার মোল্লা কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের আসকির মিয়ার ছেলে, কাশেম হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল্লাহ একই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে, আমির উদ্দিন অভিযুক্ত সুদ সম্রাট সাদ মিয়ার ছেলে।

  এলাকায় তারা সংঘবদ্ধভাবে ভূমি দখলদার, মাদক ব্যবসায়ী ও সুদখোর ঘোষখোর বিচারী
হিসেবেও পরিচিত। তাদের প্রতিবেশীদের বাড়িঘর অধিকাংশই তাদের দখলে রয়েছে, যা খাশ জমি থাকায় জাল কাগজ বানিয়ে নিজের নামে করে নিয়েছে, যা নিয়ে প্রাণ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেনা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। মুখ খুললেই তাদের উপর নেমে আসে চরম অত্যাচার। কখনো তাদের বিকৃত মাদক দিয়ে মিথ্যা প্রচার করে নিরীহ মানুষের উপর দেওয়া হয় মাদকের মামলা। আবার কাউকে সুদের টাকা ৬গুণ বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টিসহ মারধর করে, আবার কাউকে তাদের নিজস্ব মুদির দোকান থেকে বাকীদারদের কাছে প্রাপ্য টাকা তিনগুণ বাড়িয়ে এভাবেই কোণঠাসা করে প্রভাব-প্রতিপত্তি সৃষ্টি করেছেন তারা।

তাদের সবাইকে লিড দিচ্ছে কথিত জব্বার মোল্লা সে রাজনৈতিক ভাবে সর্বদলীয় হিসেবে পরিচিত, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে সেই দলের হয়ে যায়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় সে তার শশুরের পরিচয়ে (তার শশুর অত্র উপজেলার একটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি)  আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা কর্মিদের সাথে চলা ফেরা করে, এবং সুযোগ বুঝে কৌশলে তাদেরকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। বিগত নির্বাচনে সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিএনপি’র হয়ে বিভিন্ন নাশকতা করান, পরবর্তীতে কৌশলে মামলা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামবাসীর কয়েকজন ঘঠনার প্রত্যক্ষদর্শী মুরুব্বি বলেন, নাজিম যখন অপর দিক থেকে তার মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলো, তখন আজমল তাকে সিগন্যাল ও ডাক দেয়, তখন নাজিম সাইকেল ব্রেক করে জিজ্ঞেস করে কি আজমল ভাই দরকার নি, তখন আজমল বলে উটে কুত্তার বাচ্চা ভাই বলছকি, এই বলে নাজিমের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, তৎক্ষনাৎ খলিল, আমির, আব্দুল্লাহ, সাদ, বাচ্চু আসে, তখনও নাজিম মোটরসাইকেলে বসা এবং সাইকেল স্টেন্ড করতে পারেনি, ওরা দুজন সে সাইকেলে বসা অবস্থায় তার দুই হাত ধরে ফেলে, এবং সবাই মিলে কিল ঘুষি মারতে মারতে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং নাজিম পকেটে থাকা টাকাসহ কাগজপত্র গায়ে থাকা গেঞ্জি ছিড়ে নিয়ে নেয়, তখন নাজিমের মরে যাওয়ার ভয়ে এগিয়ে আসে তানু মিয়া ও তাজুল নামক দুই ব্যক্তি, তারা এসে নাজিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। পরে এখান থেকে কেউ তার বাড়িতে খবর দিলে তার আত্নীয়রা এসে সেখান থেকে সোজা থানার দিকে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার নাজিম উদ্দিনের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহাগ মিয়ার সাথে কথা বললে তিনিও উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলো হুবহু বর্ণনা করে বলেন, আমি যখন আমার ছেলেকে নিয়ে থানায় যাচ্ছিলাম তখন রাস্তায় গিয়ে খবর পাই তারা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে আমার বসত বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার জন্য আসছে, পরে আমার ওয়ার্ডের মেম্বার সেখানে গিয়ে অন্যান্য মুরব্বিদের নিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন আমি এখন আতঙ্কিত, হামলা মামলার ভয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছিনা, আমি স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এবং সঙ্গে সঙ্গে কুলাউড়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছি।