মুন্সিগঞ্জে আরাফাত হত্যায় ২ মাস পর লাশ উদ্ধার

0
16

মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঞা (মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি)
মুন্সিগঞ্জ পৌরএলাকার পূর্বশীলমন্দি গ্রামের আলোচিত ও রহস্যময় আরাফাত হত্যার দুই মাস পর তার বাড়ির অব্যবহৃত লাকড়ির ঘরের মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করেছে মুন্সি গঞ্জ সদর থানা পুলিশ।

গত শুক্রবার বিকেল ৫ টার সময় পূর্বশীলমন্দি গ্রামে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যায় জড়িত এবং হত্যার দায় স্বীকার করায় আরাফাতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও রিয়াজকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, গত ২০ রমজান ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদে অসুস্থ হয়ে পড়েন আরাফাত (৪৩)। এলাকাবাসীর সহায়তায় সে বাড়িতে আসে এবং তার স্ত্রী আকলিমা জানায় তার স্বামী ঢাকায় গিয়ে আর ফিরেনি এবং সে নিখোঁজ হয়েছে। এ অবস্থায় ১৫ মে স্ত্রী সাধারণ ডায়েরি (৬২৯) করেন। পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদও ছাপানো হয় এবং তিনি একটি অপহরণ মামলাও করেন। তারপর আত্মীয়স্বজন ও পুলিশ তার খোঁজ করা অব্যাহত রাখেন।

শুক্রবার সকালে আরাফাতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার আরাফাতের বন্ধু শিপলু সরকারের সাথে কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলেন যে তিনি তার স্বামী আরাফাত মোল্লাকে খুন করেছেন। সাথে সাথে শিপলু সরকার মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে ফোন করে কথাটি জানালে পুলিশ ঘনটাস্থলে গিয়ে নিহত আরাফাতের স্ত্রী ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে।

আরাফাতের স্ত্রীর জবানবন্দিতে আরাফাতের হত্যার বর্ণনা দিয়ে বলেন লাশ লাকডি ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

এ সময় ঘটনাস্থল উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব, সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর ছিদ্দিক, ওসি (তদন্ত) রাজিব হোসেন খান।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ওপ্রশাসন) সুমন দেব বলেন, আরাফাত নিখোঁজের কথা বলে তার স্ত্রী মুন্সিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তের স্বার্থেই আমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং আমাদের ইন্টাগেশনে আরাফাতের স্ত্রী স্বীকার করেন যে তিনি ও আরেকজন সহযোগী মিলে আরাফাতকে হত্যা করে তাদের লাকড়ি রাখার ঘরে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছেন। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসি এবং তার দেখানো স্থান থেকে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করি। আকলিমা ও তার সহযোগী রিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।