যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে বৃদ্ধার শেষ সম্বলটুকু

0
15

রায়হান কবির জেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ
ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বাড়িটি

বাড়ির ভেতরে দুইটি ঘর, ঘরের ভেতরে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকাও ভয়ের। ঘরের চারদিকে ফেটে গেছে। অসংখ্য ফাটল দিয়ে ভেতরে ঢুকছে সূর্যের আলো। বৃষ্টি হলে ঢোকে পানি। ভেঙে যাওয়া কাঠের চৌকির নিচে গুটি গুটি মাটি উঁচু ঢিবি হয়ে আছে। এমন পরিবেশেই বসবাস করেন অসহায় তালা মার্ডি।

ধামইরহাট উপজেলা পৌরসভার দক্ষিণ চকযদু ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিভৃতপল্লির তালঝাড়ী গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা তালা মার্ডি। চার বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন অভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার জীবন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিধবা তালা মার্ডির ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড বা সরকারি কোনো সাহায্য। পাননি মাথা গোঁজার মতো সরকারি কোনো ঘর। তার ছেলে দিনমজুরির কাজ করেন। থাকার মতো একটি ঘর আছে। এক বছর আগে ঝড়বৃষ্টিতে তা ভেঙে পড়ে। নিরুপায় হয়ে এই ভাঙা ঘরে বসবাস করে যাচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে।

জানতে চাইলে আক্ষেপ করে তালা মার্ডি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার একমাত্র সম্বল এই বাড়ি। গত বছর অতিবৃষ্টির কারণে বাড়িটির চারদিকে ফেটে যায়। ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে ঘরটি। খুব ভয়ে আছি। ঘরের চারদিকে অসংখ্য ফাটল।

তালা মার্ডি বলেন, অনেকেই সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পান। এখন পর্যন্ত কিছুই জোটেনি আমার ভাগ্যে। অসুস্থ অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছি। আমাদের দেখার কেউ নেই। আপনারা সকলে মিলে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে আল্লাহ আপনাদের ভালো করবেন।

এই বাড়ি থেকে বৃদ্ধাকে অন্যত্র কোথাও সরিয়ে না আনলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, এমনটা আশঙ্কা করে প্রতিবেশী সমসের আলী বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরিবদের ঘর দেয়। যদি বৃদ্ধা একটা ঘর পান, তাহলে বাকি জীবনটা সুখে কাটাতেন। দিনমজুর ছেলের রোজগারে জীবন চলে না তার। খুব কষ্টে আছেন তিনি।

দক্ষিণ চকযদু ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি অসহায় পরিবার একটি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি সাহায্য পাওয়ার যোগ্য। আমি এ বিষয়ে যাবতীয় ব্যবস্থা নেব। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে থেকে সব প্রকার সাহায্যে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গণপতি রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে উপজেলায় যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই