যেসব ব্যক্তির দোয়া সব সময় কবুল হয়

0
10

ধর্ম ডেস্ক |

সব সময় যাদের দোয়া কবুল করা হয় তারা ‘মুসতাজাবুদ দাওয়াহ’। এ ছাড়াও এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের দোয়া আল্লাহ তাআলা সব সময় কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ৬ শ্রেণির ব্যক্তির কথা হাদিসে উল্লেখ করেছেন; যাদের দোয়া কখনও ফেরত দেওয়া হয় না। এসব ব্যক্তি কারা?

যে বা যারা আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় বা প্রার্থনা করে; আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি খুশি হন। কেননা হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চায় না বা সাহায্য প্রার্থনা করে না; আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রাগান্বিত হন।’

যাদের দোয়া কখনও ফেরত দেওয়া হয় না; এমন ৬ ব্যক্তি হলেন-

১. অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া

অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করে থাকেন। অসুস্থতার সময় আল্লাহ তাআলা মানুষের গোনাহ ক্ষমা করে দেন। তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। হাদিসে এসেছে- কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেলে তার কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া। কেননা অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া বা মিনতি ফেরেশতাদের দোয়া বা মিনতি করার মতা।’ (ইবনে মাজাহ)

২. রোজা পালনকারী দোয়া

রোজা রাখা অবস্থায় দোয়া করলে আল্লাহ সে দোয়া কবুল করে নেন। রোজা রেখে দোয়া করা মানুষের জন্য উপযুক্ত সময়। হাদিসে এসেছে-

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রোজাদার ব্যক্তি যখন ইফতারের সময় তার রোজা ভাঙে বা ইফতার করে। সে সময় রোজাদারের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।’ (ইবনে মাজাহ)

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের অবশ্যই একটি দোয়া আছে, যা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (কবুল হয়)। ইবনে আবু মুলাইকা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি-

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকা ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন।’ (ইবনে মাজাহ)

৩. বাবার দোয়া

সন্তানের জন্য বাবার দোয়া। সাধারণত মায়েরাই সন্তানের জন্য বেশি বেশি দোয়া করে থাকেন। মায়ের তুলনায় বাবারা দোয়া করেন কম। কিন্তু কোনো বাবা যদি সন্তানের জন্য বদ-দোয়া করেন আল্লাহ তাআলা তা ফেরত দেন না। সে কারণে সন্তানের জন্য জরুরি হলো বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। বাবার মন সন্তুষ্ট থাকলে সন্তানের জন্য এমনিতেই রহমত ও কল্যাণ নাজিল হয়। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন-

– মজলুম (নির্যাতিত) ব্যক্তির দোয়া,

– মুসাফিরের দোয়া আর

– সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

৪.অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অন্য ব্যক্তির দোয়া

কেউ কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে তা দ্রুত কবুল হয়। আল্লাহ তাআলা এ দোয়া কখনও ফেরত দেন না। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি তার কোনো ভাইয়ের জন্য তার পেছনে (তার অনুপস্থিতিতে) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে ফেরেশতা সে দোয়া (কবুলে) ‘আমিন’ বলেন। (আর কান্নাকাটি করে দোয়া করলে) নিজের জন্যও এ দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)

৫. মাজলুম ব্যক্তির দোয়া

যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দ্বারা জুলুমের স্বীকার হয়, অত্যাচারিত হয়; তবে ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। হাদিসে এসেছে-

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ৩ ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে লোক তার প্রতি অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে দোয়া করল সে প্রতিশোধ গ্রহণ করল।’ (তিরমিজি)

৬. সফরে থাকা অবস্থায় দোয়া

যে ব্যক্তি সফরে থাকে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

যাদের সতর্ক থাকা জরুরি

কোনো সন্তানেরই উচিত নয় যে, বাবা-মার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। কেননা বাবা-মা সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম। সন্তান যদি বাবা-মার অনুগত হয় তবে জান্নাত সুনিশ্চিত। আর যদি অবাধ্য হয় তবে জাহান্নাম সুনিশ্চিত।

আবার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলুম করা হলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহর সঙ্গে পর্দা থাকে না। সে যে দোয়া করে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নেন। সুতরাং কারো প্রতি জুলুম করা মারাত্মক অপরাধ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নির্দেশনাগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন। হাদিসগুলোর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।