যে আমলে কোরবানির সওয়াব৷

0
9

ধর্ম ডেস্ক

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এই দশকের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও ফজিলত অপরিসীম। কেননা, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে এই দশকের রাতের শপথ করেছেন। তিনি বলেন, ‘শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের’ (সুরা ফাজর, আয়াত : ১-২)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও মুজাহিদ (রহ.)-সহ অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত্রি’ বলতে জিলহজের প্রথম দশ রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরু ইবনি কাসির : ৪/৫৩৫)
এই দশকে বেশ কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো করলে আল্লাহ তাআলা বিপুল সওয়াব দান করবেন। তন্মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো- জিলহজের চাঁদ ওঠার পর—কোরবানি আদায় করা পর্যন্ত; এই দশ দিন শরীরের কোনো প্রকার চুল-পশম ও নখ না কাটা।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে বললেন— আমাকে কোরবানির দিন ঈদ পালনের আদেশ করা হয়েছে, যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী) আমি কি তা দিয়ে কোরবানি করব? নবীজি (সা.) বললেন- না, তবে তুমি নখ, চুল ও মোঁচ কাটবে এবং নাভির নীচের পশম পরিস্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে।
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৭৭৩, ৫৯১৪)
এমনকি সাহবায়ে কেরাম ও তাবেয়িরাও এ দিনগুলোতে শিশুদের চুল-নখ কাটা অপছন্দ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) এক নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। ওই নারী জিলহজের দশকে ছেলের চুল কেটে দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, সে যদি কোরবানির দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করত— অনেক ভালো হতো। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস : ৭৫৯৫)

প্রথম দশকে নখ-চুল ও পশম না কাটার বিষয়ে বর্ণিত সকল হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের আমল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যারা কোরবানি করবেন এবং যারা সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি করবেন না— সবার জন্যই এই আমল করা উত্তম।
তবে যিনি কোরবানি করবেন, তার জন্য এ আমলটি তুলনামূলক অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, ‘যখন তোমরা জিলহজের চাঁদ দেখতে পাও এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করতে চায়, সে যেন— তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)