রাউজান উপজেলার তিন প্রবাসী সন্তানের তিন ভিন্ন ভিন্ন দেশে মৃত্যু

0
74

মুহাম্মদ দিদারুল আলম,চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

গত এক সপ্তাহে ৩ দেশে ৩ রাউজান প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
তাদের মধ্যে দুজন মারা গেলেন স্ট্রোকে অপরজন সড়ক দূর্ঘটনায়। মারা যাওয়া ওই তিনজনের নাম, মো. হাবীবুর রহমান, মো. আবু ছিদ্দিক (৩৬) ও মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ (৫৯)।

জানা যায়, বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ (৫৯)। নিহত ওই প্রবাসী চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মধ্যম পাঠান পাড়া গ্রামের কবির আহমেদের বাড়ির মৃত নুরুল হকের পুত্র।
নিহতের ভাইপো কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ মোজাম্মেল জানান, গত বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সবজি সরবরাহের কাজে নিজ মাইক্রো চালিয়ে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সালওয়া সড়কের পাশে দেওয়ালের সাথে সজোরে ধাক্কা লেগে ঘটনা স্থলে নিহত হন। তার লাশ বর্তমানে দোহার আল খোর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে লাশ দেশে পৌঁছাবে।
নিহতের শ্যালক তৈয়ব আলী জানান, তিনি বিগত ত্রিশ বছর ধরে প্রবাস জীবনে আছেন। বিবাহিত জীবনে তিনি ২ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের জনক।
চলতি বছরের অক্টোবরে বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য দেশে আসার কথা ছিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তার এক মাস পূর্বে লাশ হয়ে তিনি দেশে ফিরছেন।

এর আগে, মধ্যপ্রচ্যের আরেক দেশ ওমানে মারা যায় প্রবাসী মুহাম্মদ আবু ছিদ্দিক (৩৬)। সে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া গ্রামের মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে। সে ব্রেইন স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা কোষ নষ্ট হওয়া) হয়ে ওমানের ইবরা হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিও) চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান। এক সপ্তাহ যাবত তিনি চিকিৎসাধিন থাকার পর মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট) দুপুর ২টার সময় ইন্তেকাল করেন। বিবাহিত জীবনে আবু সিদ্দিকের ছয় বছর ও দুই বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। শুক্রবার সকালে তাঁর লাশের কফিন ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছে। স্বজনরা লাশ গ্রহণ করে রওনা হয়ে একইদিন মাগরিবের নামাজের পর পর রাউজানের গ্রামে পৌঁছে তাঁর লাশের কফিন। একইদিন এশা নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ওমানে আসবাবপত্র বানানোর কাজ করতেন তাঁর ছোট ভাই আবু সৈয়দসহ। গত মার্চ মাসে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে আবার ওমানের কর্মস্থলে যান তিনি। এরমধ্যে সপ্তাহ খানিক আগে সেদেশে তাঁর ব্রেইন স্ট্রোক হয়। পরে তাঁকে সেখানকার ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর স্বল্প বয়সে প্রবাসে মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধবান্ধব ও গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, গত ৩১ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকে মারা যান প্রবাসী মো. হাবীবুর রহমান। সে রাউজান প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক এম রমজান আলীর সেঝ ভাই। মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী, ভাই-বোন, তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
সে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের হামজার পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের তৃতীয় পুত্র এবং প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল বদিউদ্দীন ফকিরের দৌহিত্র।