রাঙ্গামাটিতে করোনায় মলিন বৈসাবি

0
298

জেলা প্রতিনিধি | রাঙ্গামাটি

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম প্রধান উৎসব বৈসাবি। চৈত্র সংক্রান্তিতে বাংলা পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এ উৎসব পালন করা হয়।

প্রতিবছর এসময়ে পাহাড়ের পাড়ায়-পাড়ায়, ঘরে-ঘরে উৎসবের আমেজ থাকে। কিন্তু করোনার কারণে এবারো রাঙামাটিতে বিঝু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু-২০২১ উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে এসব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

এবারও তাই আনুষ্ঠানিকভাবে হচ্ছে না বৈসাবি র‍্যালি ও ফুল ভাসানো উৎসব। এবারের আনুষ্ঠানিকতা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

১২ এপ্রিল সকালে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে নববর্ষের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন পাহাড়িরা।

স্থানীয়রা জানান, উৎসবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, পাহাড়ি নৃত্য, গান, অতিথি আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির লালন-পালন করা।

মূলত ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসু, মারমাদের ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিঝু এ তিন উৎসবকে একসঙ্গে বৈসাবি আখ্যায়িত করা হয়।

উৎসবের প্রথম দিন চাকমারা ফুলবিঝু, দ্বিতীয় দিন মূলবিঝু, তৃতীয় দিন গোজ্যেপোজ্যে দিন পালন করেন।

আর মারমারা প্রথমদিন পাইংছোয়াই, দ্বিতীয় দিন সাংগ্রাইং আক্যা, তৃতীয় দিন সাংগ্রাইং আপ্যাইং উৎসব পালন করেন।

এদিকে ত্রিপুরাদের প্রথম দিন হারিবৈসুক, দ্বিতীয় দিন বৈসুকমা, তৃতীয় দিন বিসিকাতাল নামে এ উৎসব পালন করে। এভাবে প্রত্যেক বছর আনন্দ-উৎসবে পালিত হয়ে আসছে উৎসবটি।

বিঝু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু-২০২১ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, অন্যান্য বছর আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করি। কিন্তু করোনার জন্য উৎসবের অনুষ্ঠান স্থগিত করছি। তবে ঘরোয়া পরিবেশে উৎসব পালনের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরো বলেন, শহর এলাকা ও গ্রামাঞ্চল আলাদা। শহর এলাকায় ঘনবসতি ও করোনার প্রভাবও বেশি। তাই গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবের আয়োজন চলছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে বসবাসরত ১৩ নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে বিজু, সাংগ্রাই, সাংক্রান, সাংক্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু উৎসব পালন করা হয়। আর এ উপলক্ষে ৯ এপ্রিল থেকেই র‍্যালিসহ বিভিন্ন পাহাড়ি খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।