রাজনীতিতে ভালো মানুষ আসতে চায় না: কাদের

 

 

স্বাধীন নিউজ প্রতিবেদক!
ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, “আমরা রাজনীতিকে তাদের জন্য উপযুক্ত করতে পারিনি। চরিত্রবানদের রাজনীতিতে নিয়ে আসতে হবে। তারা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতি খারাপ হয়ে যাবে।”

রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির (জেপি) ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনটি রমনার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগে টানা তিনবার কেউ সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। ওপরে আল্লাহ আর নিচে শেখ হাসিনার কল্যাণে তা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “৭৫ -এর হত্যাকাণ্ড বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ঘটনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা, জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক দেয়াল তৈরি করা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনীতিতে সেতু নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

গণতন্ত্রকে বাঁচাতে শক্তিশালী বিরোধীদল প্রয়োজন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নষ্ট রাজনীতিকেরা নষ্ট রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখে। রাজনৈতিতে ভালো মানুষেরা নেই, আমরা রাজনীতিকে আকর্ষণীয় করতে পারিনি।

ছাত্র রাজনীতির সুনামের ধারা হারিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “খারাপ লোকদের হাতে রাজনীতি থাকলে দেশটির খারাপ হয়ে যাবে। ভালো, সৎ ও মেধাবীদের রাজনৈতিক আনতে হবে, না হয় রাজনীতি চরিত্রহীন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। বিজয়কে সুসংহত করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এদেশকে এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচাতে হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে এবং বিজয়কে সুসংহত করতে ও উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে ক্ষমতার মঞ্চে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।”

ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ১৪ দলের জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু,

বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ।

অধিবেশনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমার বড় বোন নেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় বোনের সেই অভাব পূরণ করেছেন।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে তিনি বলেন, “ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে।”

আমির হোসেন আমু বলেন, “বিএনপি বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে বিলুপ্ত করে বিএনপি আবার দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র ছিল, থাকবে। তবুও মানুষের কল্যাণের কথা বলতে হবে। নির্বাচনকে বাদ দিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বনকারীদের যেকোনো মূল্যে রুখে দিয়ে আবারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, “বিএনপির বিভিন্ন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজ দলের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

হাসানুল হক ইনু বলেন, “বিএনপি অপরাজনৈতি করা দল, তারা রাজনৈতিক বেয়াদব, তারা কী রাষ্ট্রকে মেরামত করবে? আগে তাদের মেরামত করতে হবে।”

সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “সংবিধানকে আবারও বিএনপি ক্ষতবিক্ষত করতে চায়। অরাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করে, সংবিধানকে আবারও তারা ক্ষতবিক্ষত করতে চায়।”

দীলিপ বড়ুয়া বলেন, “বিএনপি অরাজনৈতিক ধারাকে অনুসরণ করে। যারা অরাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করে, এদেশে তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত নয়।”

 

 

 

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -