রাজস্থলীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সপ্নের ঘরে বসবাস করছে অধীকাংশ পরিবার ।

0
12

হারাধন কর্মকার রাজস্থলী।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক আশ্রয়ণ প্রকল্প -২ এর অধীনে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া জমি ও ঘরে বুক ভরা আনন্দ নিয়ে সপ্নের ঘরে বসবাস করতে শুরু করেছে অধিকাংশ উপকার ভোগী। রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে দুইটি ধাপে ২৩৯টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন। ঘরগুলো দুই টি ধাপে ভুমি হীন পরিবারের নিকট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
তারই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজস্থলী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ১৭৭টি পরিবারের হাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।রাজস্থলীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের -২ এর আওতায় দুটি ধাপে উপজেলায় ২৩৯টিঘরের বরাদ্দ পাওয়া পেয়েছে। তৎমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬২টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৭৭টি ঘরের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। উপকার ভোগী শফিপুর এলাকার স্বামী হারা আয়সা বেগম বলেন স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিন বছর আগে মারা যায় ।দুই টি সন্তান নিয়ে শশুরের ঘরে থাকতে অনেক কষ্টে জীবন চলতো তার। ভাবেননি কখনো নিজের জমির ঘরে থাকতে পারবেন। নিজের ঘর ও জমি ছিল আয়সা বেগমের স্বপ্ন । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওয়তায় আয়সা বেগম পেয়েছে নিজের নামে দুই শতক জমি ও একটি টিনশেডের দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর। সঙ্গে রয়েছে একটি গোসলখানা ও টয়লেট।তার এ স্বপ্ন পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুধু আয়সা বেগম নয় ইসলামপুর গাইন্দ্যা বাজারের ঝাড়ুদার স্বপ্না মজুমদার (৩৯) বলেন জীবনের কল্পণা করতে পারেনি এ ধরনের একটি সুন্দর ডিজাইনের সেমি পাকা ঘরে বসবাস করতে পারব।ঘর নির্মাণের সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ইট,বালি, কংকর,সেমিন্ট, ঘরের টিনসহ নির্মাণ কাজের সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। ঘরের কাজ গুলো নির্মান কালে সার্বক্ষণিক তদারকিতে তৎপর ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ ছাদেক।আরেক উপকার ভোগী উসিমং মারমা বলেন দৈনিক কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে যা উপার্জন করি তা বিক্রয় করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।তার মধ্য নতুন ডিজাইনের সেমি পাকা ঘরে বসবাস করতে পারব কোন দিন কল্পনা করতে পারেনি।একমা আওয়ামী লীগ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য আজ আমাদের মতো হাজার হাজার পরিবার পাকা ঘরে বসবাস করতে পারছি। উসিমং মারমা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও প্রকল্প কর্মকর্তার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা বলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন মে সমস্ত পরিবার গুলো ঘর পেয়ে তারা প্রান খুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘরগুলো বাস্তবায়নে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ ছাদেক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উথান মারমা বলেন গাইন্দ্যা ইউনিয়ন টি সদর ইউনিয়ন হলেও বেশ কয়েকটি পাড়া রয়েছে দূর্গম এলাকায়। সেখানেও নির্মিত ঘরের কাজ দৈনিক পায়ে হেঁটে পরিদর্শন অব্যাহত রয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন দুইটি ধাপে রাজস্থলী উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ঘরের মধ্যে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা করে ১৯০টি ও ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা করে ৪৯ টি মিলে মোট ২৩৯টি ঘর নির্মাণ কাজ শত ভাগ বাস্তবায়নে কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় এবং যারযার বসত ভিটায় ঘরগুলো নির্মান করে দেওয়ায় অত্যন্ত খুশি উপকার ভোগিরা।অনেক পরিবা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি আরো বলেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন টি ইউনিয়নে প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে চলমান কাজের গুণগত মান বজায় রেখে ঘর নির্মাণের সামগ্ৰী পোঁছে দিয়েছি । ঘরের কাজ গুলো সম্পন্ন করতে সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ ছাদেক।
উপজেলা চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বলেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী। তার মন সাধারণ মানুষের জন সব সময় কাঁদে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে বলেই মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষ গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে দেশের সব ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে যত মানুষকে ঘর দিয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সবার সহযোগিতায় রাজস্থলীতে নির্মিত ঘরগুলো ভালো মনের নির্মান সামগ্ৰী দিয়ে করায় ঘর গুলো ভালো আছে। কার্যক্রমের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে রাজস্থলী উপজেলায় অসহায় ও গৃহ হীন ২৩৯টি পরিবারের মুখ ফুটে হাসি দেখা যাওয়াই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি উপজেলা বাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান । এদিকে চলমান দ্বিতীয় ধাপের ঘরের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন কালে কাজের গুণগত মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।