রাজস্থলী – চন্দ্রঘোনা প্রধান সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

0
8

সরে গেছে রাস্তার নিচের মাটি ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

হারাধন কর্মকার রাজস্থলী।

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা প্রধান সড়কের পাশে সরে গেছে রাস্তার নিচের মাটি ,বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করেছেন পথচারীরা। জানা যায় গত কয়েকদিনের থেমে থেমে রাতের প্রচন্ড বৃষ্টিতে রাস্তার দুই পাশের ড্রেন গুলো তে মাটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল করতে না পারায় রাজস্থলী ও বাঙ্গালহালিয়া প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।এতে করে সড়ক জনপদ বিভাগের নেই কোন তদারকির । বিশেষ করে রাজস্থলী- চদ্রঘোনা সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই সড়কটিতে মানুষেরা প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে রাজস্থলী -চদ্রঘোনা সড়কটি দিয়ে বান্দরবান, রাজারহাট পদুয়া, চট্টগ্রাম সহ তিন পার্বত্য জেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। বাঙ্গালহালিয়া থেকে রাজস্থলী উপজেলার প্রধান সড়ক ২১ কিলোমিটার পর ঠেঘামুখ সীমানা স্থলবন্দর ট্রানজিট সড়ক নির্মাণ কাজের পাথরবোঝাই বড় বড় ট্রাক প্রতিদিন আসা-যাওয়া করায় সড়কের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে রক্ষণাবেক্ষণের ছোটখাটো কাজ হয়েছে। রাজস্থলী -চদ্রঘোনা সড়ককে পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন,পাবনা টিলা,ছালাম মার্কেট,গাইন্দ্যা স্কুলের পাশে, ইসলামপুর ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা,মোড়ল টিলা,ওগাড়ি পাড়া, চিতা খোলা,গামাড়ি বাগান, ছাইচং ব্রীজ, বড়ইতলা, রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন, রাজস্থলী বাস ষ্টেশন এলাকায় অসংখ্য খানাখন্দ দেখা গেছে। বেশির ভাগ স্থানে সড়কের পিচ উঠে ইটের খোয়া বের হয়ে গেছে। এবং দুই পাশের মাটি সরে গেছে। বিশেষ করে রাজস্থলী সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে কাঁদা মাটিতে হাহাকার হয়ে যায়। শফিপুর ছালাম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ও আনসার ভিডিপির পিসি আব্দূর রাজ্জাক বলেন গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে টানা বৃষ্টি রাজস্থলী – চন্দ্রঘোনা প্রধান সড়কের ছালাম মার্কেটের পাশে গত দুই দিন ধরে যে হারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ গ্ৰহন করা না গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান। বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ঞোমং মারমা বলেন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়কে শতাধিক যাত্রীবাহী, মালামাল ও পাথরবোঝাই যানবাহন চলাচল করছে। সড়কে খানাখন্দ থাকায় প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে থাকে। প্রধান সড়কটি দিয়ে তিনটি বাজারে কৃষকদের কৃষি মালামাল পরিবহনের সহ চলাচল ঠেগামুখ ট্রানজিট সড়কের নির্মাণ কাজের সামগ্রী পরিবহনের একমাত্র সড়ক। তাই সড়কটি সংস্কার সহ রাস্তার পাশের ধ্বসে যাওয়া স্তন গুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আরেফিন এর সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয় নি। রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি উবাচ মারমা বলেন রাজস্থলী -চদ্রঘোনা সড়কটি দিয়ে দৈনিক সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা ও উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ চলাচল করেন। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। এবং কৃষি নির্ভরশীল এই এলাকার মানুষ গুলোর কৃষি মালামাল পরিবহন করে আসছে সড়কটি দিয়ে। গত মাস খানিক ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট বড় গর্ত দেখা দেওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। এবং সড়কের ছালাম মার্কেট, গাইন্দ্যা, ইসলামপুরসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তার পাশে মাটি সরে রড় আকারের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন গুলো সহ রাস্তার দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন গুলো সংস্কারের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।