লাশের বস্তায় লেখা ‘সূত্র’ ধরে মিলল খুনি!

0
52

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত এক নারীর পরিচয় বের করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বস্তার সূত্র ধরে ১৫ ঘণ্টার মধ্য মূল আসামি ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার রামনগর গ্রামের মৃত এখলাছ মিয়ার ছেলে।

নিহত তরুণীর নাম ডলি আক্তার। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদরের বর্ধনপুরে। তিনি সুদ কারবারি মাসুদ মিয়ার পঞ্চম স্ত্রী। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার রামনগরে নিজ বাড়ি থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার বেলা ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জাকারিয়া জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদনাছড়া নদীর ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ওই নারীর পরিচয় ও খুনের কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করে। লাশের বস্তার গায়ে মো. অনিক, শ্রীমঙ্গল লেখা দেখে পুলিশ অনিক নামের এক ব্যবসায়ীর সন্ধান পায়।

শহরের সাইফুর রহমান মার্কেটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী দুই ভাই অনিক ও জুয়েলের কাছ থেকে জানা যায়, গত সোমবার ঘাতক স্বামী মাসুদ মিয়া একটি বস্তা তাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন। তখন থানা পুলিশ নারীর স্বামী মাসুদ মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে জানান, সাত থেকে আট মাস আগে ডলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এর আগেও তিনি চার বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক আছে। এগুলো নিয়ে ডলির সঙ্গে তার কলহ হয়। এর জেরে সোমবার রাত ৩টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি ডলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মরদেহ বস্তায় ভরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. বেলালের সহযোগিতায় এটি উদনাছড়ায় নিয়ে ব্রিজের ওপর থেকে ফেলে দেন।

এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মঙ্গলবার গভীর রাতে মামলা করেন। মামলায় মাসুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।