লিটনের ঝড়ে সাগরিকায় সিলেটকে মাটিতে নামালো কুমিল্লা!

 

 

স্বাধীন নিউজ প্রতিবেদক
লিটনের তাণ্ডবে সিলেট স্ট্রাইকার্সের দেওয়া ১৩৪ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে ছেড়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে লিটন যে ম্যাচ সহজ বানিয়ে ফেলেছিলেন, তিনি ফেরার পর সেটাকেই কঠিন বানিয়ে ফেলেছিল বাকি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত সহজ ম্যাচ কঠিন করেই জিতেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

সাগরিকার মাঠে ব্যাট হাতে রীতিমতো সিলেটের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন লিটন। তার ৪২ বলে ৭০ রানের টর্নেডো ইনিংসে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা সিলেটকে পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে কুমিল্লা।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই কুমিল্লার বোলারদের তোপে পড়ে সিলেটের ব্যাটাররা। ২০ রানেই ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস, জাকির ও আকবর।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক চাপ সামাল দেন মুশফিকুর রহিম। তবে দলীয় ৪৮ রানে মুশফিক ফেরার পর মাত্র এক রানের ব্যবধানেই শান্তও।

এরপর চার রানের ব্যবধানে শরিফুল্লাহ ও মাশরাফি বিন মুর্তজাও ফিরে গেলে চরম বিপদে পড়ে সিলেট। এরপর পেরেরা ও ইমাদ মিলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিয়ে রানের চাকা সাবলিল রাখেন।

শেষ পর্যন্ত এই দু’জনের ৮০ রানের জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৩৩ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট। ইনিংস শেষে ইমাদ ৪০ ও পেরেরা অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন লিটন। একপ্রান্তে যখন লিটন ঝড় তুলছেন, অন্যপ্রান্তে রিজওয়ান ছিলেন খুব সতর্ক।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় কুমিল্লা। দলীয় ৫৭ রানে ফিরে যান রিজওয়ান। এরপর তিন নম্বরে কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল কায়েসকে নিয়ে আবারও জুটি গড়েন লিটন।

লিটনের ব্যাটিং তোপে রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন সিলেটের বোলাররা। দলীয় ৮৩ রানে কায়েস ফিরলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় কুমিল্লা। ফেরার আগে অধিনায়কের ব্যাট থেকে এসেচেহ ১৯ বলে ১৮ রানের ইনিংস।

ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে সিলেট স্পিনার শরিফুল্লাহকে লং অনের উপর দিয়ে বড় ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি স্পর্শ করেন লিটন।

পরের বলে সুইপ শটে আরও এক ছক্কা হাকানো লিটন শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৭০ রানে। যেখানে তার ব্যাট থেকে এসেছে সাত চার ও চার ছক্কা। চলতি আসরে এটাই লিটনের প্রথম পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস।

লিটন ফেরার পর মাত্র ছয় রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় কুমিল্লা। ফিরে যান জাকের আলি ও খুশদিল শাহ। এরপরই আসলে কিছুটা রোমাঞ্চের ইঙ্গিত দেখা যায় সাগরিকায়।

তবে মোসাদ্দেককে নিয়ে বাকি পথ নিরবিচ্ছিনভাবেই পাড়ি দিয়েছেন কুমিল্লার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার জনসন চার্লস। শেষ পর্যন্ত এক ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় কুমিল্লা।

 

 

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -