শাহজালালে নিলামে উঠছে ১২টি প্লেন, দাম না পেলে কেজি দরে বিক্রি

0
10

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বড় অংশ দখল করে রাখা ১২টি বিমান নিয়ে অভিনব সংকটে পড়ে গেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ১২টি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্লেন শীঘ্রই নিলামে তোলা হবে। এরমধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুইটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও এভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে দীর্ঘদিন যাবত বিমানবন্দরের পার্কিং ফি সহ নানারকম বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া না পাওয়া এবং জায়গা খালি করতেই এই প্লেনগুলোর শীঘ্রই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে কেজি দরে বিক্রি করা হবে প্লেনগুলো।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম তৌহিদুল আহসান সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই মূহুর্তে মোট ১২টি এয়ারক্রাফট বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরমধ্যে ১০টি গত আট বছর ধরে কার্গো-ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে।

তিনি বলেন, ‘এই বিমানগুলোর রেজিস্ট্রেশন আগেই বাতিল করেছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দর থেকে তাদের উড়োজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তারা নিজেদের বিমান সরায়নি বা জবাবও দেয়নি। তাদের কাছে পাওনা অর্থও তারা পরিশোধ করেনি বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও।’

তিনি বলেন, এখন সিভিল অ্যাভিয়েশন আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলাম আয়োজন করা হবে। কেবল বকেয়া আদায় নয়, নিলামের আরেকটি কারণ বিমান বন্দরে নিজস্ব জায়গা বাড়ানো। এই মূহুর্তে বিমান বন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। তার জন্যেও কার্গোর ওই জায়গাটি খালি করা দরকার বিমানবন্দরের। সে কারণেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলাম আয়োজন করা হবে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে প্রয়োজনে কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হবে প্লেনগুলো।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক বলেন, ইতোমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া নির্ধারণে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিলামের কর্মপদ্ধতি ও সুপারিশমালাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই ১২টি প্লেনের পার্কিং চার্জ ও সারচার্জ বাবদ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬০ কোটি টাকা বকেয়া জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে। ২০১২ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্স তাদের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিত করে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছ থেকে বকেয়ার পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মার্চে বন্ধ হয়ে যায় রিজেন্ট, কিন্তু তার আগেই বেশ কয়েকটি রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সংস্থাটি।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বকেয়া ১৯০ কোটি টাকা। দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একমাত্র বিমান কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বন্ধ রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে।