শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর; প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ।

0
14

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী জনিত কারণে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে করোনা মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করলে সামাল দিতে নাস্তানাবুদ হতো স্বাস্থ্যবিভাগ,পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের লকডাউন কর্মসূচি নিসন্দেহে বাহবাযোগ্য।

অবশেষে পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নোভেল করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলো।রাশিয়া,যুক্তরাষ্ট্র,চীন,ভারতের পাশাপাশি গ্লোব বায়োটেক নামে একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর ১১ তম দেশ হিসেবে করোনার টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দিল।খুশির কাঁদনে আবেগাপ্লুত হয়ে ক্রন্দনরত গ্লোব বায়োটেক নির্বাহীর সে ঘোষণায় জাতি আশাবাদী হলো। অথচ দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ তার পৃষ্ঠপোষকতা না করে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা না করে চড়া দামে টিকা আমদানী করতে থাকে।সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাঙ্গালীরাও যে কিছু করে দেখাতে পারে তার প্রমাণ ড.ইউনুস,ড.সুভজিৎ রায় সহ অনেকেই।

সারাদেশে করোনা যখন নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় এসেছে, অফিস, আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। কবে খুলবে কোটি শিক্ষার্থীর প্রিয় ক্যাম্পাসগুলো? শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার প্রহর শেষই হতে চায় না যেন। অপেক্ষার পর অপেক্ষা তারপর অপেক্ষা, আবার অপেক্ষা!! এভাবে বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বর্ধিতকরণে হতাশ ছাত্র সমাজ।

একটা সময় ফাঁকি দিতে ভাল লাগত।
ক্লাশ না করে আড্ডায় মেতে উঠতাম।
লাগাতার ক্লাসে হাঁপিয়ে উঠতাম।অবসরের অপেক্ষা করতাম।সৃষ্টিকর্তা অবসরের সুযোগ করে দিলেন।যে অবসর থামছেই না।শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে এলো।আবেদন জানাল।অপেক্ষা করল।প্রতিবাদ করলো,মিছিল মিটিং কর্মসূচি দিলো।
কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এরই মাঝে জাতীয় বাজেট ঘোষিত হলো।শিক্ষার উপর ভ্যাট বাড়াল।
শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকারকে লাভজনক ব্যবসা কিংবা পণ্যে পরিণত করা হলো। আমার খুবই জানতে ইচ্ছে করে আর কত দিন অপেক্ষা করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী?
আমরা যে আর পারছি না! ঝড়তে ঝড়তে লটকে থাকব আর কত দিন?

লকডাউনের সুদীর্ঘ এই সময়ে প্রায় অর্ধ শত শিক্ষার্থী হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে।তারা কি ফিরবে আর? পড়াশোনা আর হচ্ছে না বলে শত শত মেয়ে গেল বিয়ের ফিরিতে,তাদের কি যাওয়া হবে পড়ার টেবিলে আর?মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেটি বেকারত্বের গ্লানি আর জীবিকার তাগিদে কেও কাস্তে হাতে মাঠে, কেও কিংবা বস্তা কাঁদে মাল বুজাই ট্রাকের পিছে ছুটছে নিরন্তর। পারা যাবে কি ফিরিয়ে আনতে তাদের?

ঠিক এমন একটি সময়ে যখন সারাদেশে শিক্ষার্থীদের অব্যাহত প্রতিবাদ,তখন শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের প্রতিবাদের ক্রিয়েটিভিটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।বললেন, “শিক্ষার্থীদের ক্রিয়েটিভিটির প্রশংসা না করে পারা যায় না।ফেসবুকে কত পোস্ট হচ্ছে, কত কৌতুকের ছড়াছড়ি হচ্ছে,ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ পাচ্ছে সেটিও কিন্তু মন্দ নয়।পরিবারের সাথে থাকছে, সীমাবদ্ধতার মাঝে কিভাবে চলতে হয় সে শিক্ষাটুকু পাচ্ছে। লকডাউনের এ কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা যে শিক্ষা পাচ্ছি তা পরবর্তী জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি”।মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কথায় ছোটবেলার একটি কৌতুক মনে পড়ে যায়,একবার এক বাড়িতে এক চোর আসে,কর্তা-কর্ত্রীর উভয়ে অবগত হয় যে বাড়িতে চোর ডুকেছে।কর্ত্রী বললো দেখ চোর ডুকেছে,কর্তা বললো দেখি না চোর বেটা কি করে।তারপর সব মালামাল গুছিয়ে নিল।আর কর্তা বলতে লাগল দেখিনা চোর বেটা কি করে।সমস্ত দামি দামি আসবাবপত্র গুলো নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে আর গৃহকর্ত্রীর কথায় কর্ণপাত না করে কর্তা বলতে লাগলো দেখিনা চোর বেটা কি করে।অবশেষে সব হারিয়ে থানায় গেল মামলা দিতে। আর সব ঘটনা শুনে পুলিশ বললো দেখো না চোর বেটা কি করে।
দেশের মেধাবী মেধাবী শিক্ষার্থীগুলো যেভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে,আত্মহত্যা করছে,পড়াশোনা থেকে ছিটকে যাচ্ছে এভাবে দেখতে দেখতে প্রজন্ম ধ্বংসের ধারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। একটি মেধাভিত্তিক জাতিসত্তার বিকাশে বর্তমান ধসে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ারে প্রথম একজন নারী। মা’য়ের আবদার আমরা তো করতেই পারি। আপনার সন্তান বছরের পর বছর ঘরে বসে বসে অলস সময় কাটানো কি মেনে নিতে পারেন আপনি? ফিরে তাকান আপনার সোনামনিদের ভবিষ্যতের দিকে।

আজ হাজারো শিক্ষার্থী আপনার একটা ঘোষণার প্রতিক্ষায়,ভালোবাসার প্রিয় ক্যাম্পাস খুলে দিন,স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

লেখকঃরবিউল হাসান
শিক্ষার্থী,চট্টগ্রাম।