সাভারে ঘরে ঢুকে সেই ছাত্রলীগ নেত্রী বাবলী আক্তার-কে হত্যাচেষ্টা

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি 
ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে স্থানীয় মাতব্বর পরিচয়দাতা দুই ব্যক্তি সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবলি আক্তারকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
মারধরে আহত ছাত্রলীগ নেত্রী বাবলী আক্তার বর্তমানে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সাভার পৌরসভার নয়াবাড়ি মহল্লার সরকার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাভারে ঘরে ঢুকে সেই ছাত্রলীগ নেত্রী বাবলী আক্তার-কে হত্যাচেষ্টা
সাভারে ঘরে ঢুকে সেই ছাত্রলীগ নেত্রী বাবলী আক্তার-কে হত্যাচেষ্টা
এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সাভার সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বাবলী আক্তার। সে নয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার মেয়ে।
অভিযুক্তরা হলেন, সাভার পৌরসভার নয়াবাড়ি এলাকার স্থানীয় মাতব্বর মো: রাব্বানী (৩৫) ও আব্দুল হালিমের ছেলে মো: পাশা (৩২)। এতে আরও ২/৩ জন অজ্ঞাত ব্যাক্তি জড়িত রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ছাত্রলীগ নেত্রীকে মারধরের বিষয়টি জানতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাতব্বর সেজে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা জানান, মো: রাব্বানী ও তার স্ত্রী মাসুদা ওরফে মাসুর সাথে বাবলি আক্তারের পরিবারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে একটি মামলায় বাবলি আক্তার গ্রেফতার হয়। সে সময় বাবলি আক্তারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় রাব্বানী ও তার পরিবার। সেই মামলায় বাবলি আক্তার আদালত থেকে জামিনে আসলে তাকে ঘিরে এলাকায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কুৎসা রটানো শুরু করেন রাব্বানী ও তার স্ত্রী মাসুদা সহ তাদের অনুসারীরা।
রবিবার সকালে নয়াবাড়ি মহল্লার একটি মুদি দোকানের সামনে রাব্বানীর স্ত্রী মাসুদা বাবলীকে উদ্দেশ্য করে কুৎসা রটিয়ে এলাকা থেকে বের করে দিবে এমন কথা বলার সময় শুনতে পেরে প্রতিবাদ করে বাবলী আক্তার। পরে দুজনের মধ্যে হয়ে যাওয়া রবিবার সকালের বাকবিতন্ডার বিষয়টি রাব্বানীকে তার স্ত্রী মাসুদা জানালে রাব্বানী ও পাশার নেতৃত্বে রবিবার দিবাগত সোমবার গভীর রাতে দলবল নিয়ে বাবলি আক্তারের ঘরে ঢুকে তাকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও শ্রীলতাহানির ঘটনা ঘটায়।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাবলি আক্তার তার শয়ন কক্ষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। গভীর রাতে  রাব্বানী, পাশাসহ অজ্ঞত আরো ৩/৪ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র হাতে তার রুমের দরজা ঠক ঠক করে। বাবলি আক্তার দরজা খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই রাব্বানী তার হাতে থাকা স্টিলের লাইট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে। বাবলি আক্তার বাম হাতে তা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার হাতের কনুইয়ের নিচে মারাত্মক জখম হয়। এ সময় তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। মুখে ও গালে থাপ্পর মারতে মারতে ঘর থেকে বের করে জোরপূর্বক টানা হেচড়া করে শ্রীলতাহানির চেষ্টা  করে। বাবলি আক্তার চিৎকার চেঁচামেচি করলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এ সময় বাবলির গলায় থাকা আট আনা ওজনের ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন এবং  ৮ হাজার টাকা মূল্যের ডায়মন্ডের নাকফুল নিয়ে যায় স্থানীয় মাতব্বর রাব্বানী, পাশা ও তার সহযোগীরা।
পরে আহত বাবলি আক্তারকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির আহমেদ জানান, হাতে পাওয়া লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, ভুক্তভোগী বাবলী আক্তার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত পূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে ধামরাই থানায় একটি মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেফতার হয় ছাত্রলীগ নেত্রী বাবলী আক্তার। ওই ঘটনার বাদী কৃষক আবদুল লতিফের দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন তিনি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী বাবলী আক্তার তাকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, পুলিশের কাছে ভুল তথ্য দিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে সেই মামলার সাক্ষী হয় আমার উপর নির্যাতনে নেতৃত্ব দেওয়া অভিযুক্ত রাব্বানীর স্ত্রী মাসুদা ওরফে মাসু। এবংকি আদালত হতে জামিনে আসার পরেও এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছেন স্থানীয় মাতব্বর রাব্বানী ও তার সহযোগীরা।
এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -