সালাম একটি ফজিলত পূর্ণ শব্দ

0
12

মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঞা
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুরা, আজকে সালামের আদান-প্রদান বিষয়ে কিছু কথা রাখছি-
সালাম আরবি শব্দ, এর অর্থ হচ্ছে শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, দোয়া, শুভকামনা। সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দন -জ্ঞাপক, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামি অভিবাদন।‘সালাম’আল্লাহর সুন্দর নাম- সমূহের মধ্যে অন্যতম।(সুরা হাশর,আয়াত:২৪) আল্লাহ তাআলা প্রথমে আদি মানব হযরত আদম (আ.)–কে সালাম শিক্ষা দেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও ফেরেশতাদের সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের কী উত্তর দেয়, মন দিয়ে শোনো।এটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালাম। সে অনুযায়ী হযরত আদম (আ.) গিয়ে ফেরেশতাদের বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’, অর্থ ‘আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ ফেরেশতারা উত্তরে বলেন, ‘আসলামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ’, অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।’
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। অন্যের গৃহে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ।
“তারপর যদি সেখানে কাউকে না পাও, তাহলে তাতে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেয়া হয়। আর যদি তোমাদের বলা হয়, ফিরে যাও তাহলে ফিরে যাবে, এটিই তোমাদের জন্য বেশী শালীন ও পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি এবং যা কিছু তোমরা করো আল্লাহ‌ তা খুব ভালোভাবেই জানেন। সূরা আন-নূর : ২৮

অর্থাৎ কারোর শূন্য গৃহে প্রবেশ করা জায়েয নয়। তবে যদি গৃহকর্তা নিজেই প্রবেশকারীকে তার খালি ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে প্রবেশ করতে পারে। যেমন গৃহকর্তা আপনাকে বলে দিয়েছেন, যদি আমি ঘরে না থাকি, তাহলে আপনি আমার কামরায় বসে যাবেন। অথবা গৃহকর্তা অন্য কোন জায়গায় আছেন এবং আপনার আসার খবর পেয়ে তিনি বলে পাঠিয়েছেন, আপনি বসুন, আমি এখনই এসে যাচ্ছি। অন্যথায় গৃহে কেউ নেই অথবা ভেতর থেকে কেউ বলছে না নিছক এ কারণে বিনা অনুমতিতে ভেতরে ঢুকে যাওয়া কারোর জন্য বৈধ নয়।

এজন্য নারাজ হওয়া মন খারাপ করা উচিত নয়। কোন ব্যক্তি যদি করো সাথে দেখা করতে না চায় তাহলে তার অস্বীকার করার অধিকার আছে। অথবা কোন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সে অক্ষমতা জানিয়ে দিতে পারে। ফকীহগণ- ফিরে যাও- এর হুকুমের এ অর্থ নিয়েছেন যে, এ অবস্থায় দরজার সামনে গ্যাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই বরং সেখান থেকে সরে যাওয়া উচিত। অন্যকে সাক্ষাৎ দিতে বাধ্য করা অথবা তার দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে বিরক্ত করতে থাকার অধিকার কোন ব্যক্তির নেই।

“যখন তোমরা নিজেদের গৃহে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতময় ও পবিত্র।” সূরা আন-নূর :৬১
” যখন তোমাদেরকে সালাম করা হয়, তখন তোমরাও ভালো কথায় সালাম কর অথবা সেই কথাগুলোই বলে দাও।” সূরা আন-নিসা: ৮৬
“ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের খবর কি তোমার কাছে পৌঁছেছে? যখন তারা তার কাছে এলো, তারপর তাকে সালাম করল, সেও তাদের সালাম করল।” অায-যারিয়াত: ২৪

আবু উমারা বারাঅা ইবনে অাযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমাকে সাতটি বিষয়ের হুকুম দিয়েছেন :
১) রোগীকে দেখতে যাওয়া ;
২) জানাযায় শরীক হওয়া;
৩) হাঁচি দানকারীর অালহামদু ল্লিল্লাহ বলার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা;
৪) দুর্বল ও বৃদ্ধকে সাহায্য করা;
৫) মাযলুমকে সহায়তা করা;
৬) সালামের প্রচলণ করা এবং
৭) শপথ পূর্ণ করা।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের মূল পাঠ ইমাম বুখারীর একটি রেওয়াত থেকে গৃহীত।

সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা জবাবে তাই দেবে।’
সুরা আন-নিসা: ৮৬।

সালামের মধ্যে রয়েছে ৩টি দোয়া-
১. শান্তির দোয়া
২. রহমতের দোয়া
৩. বরকতের দোয়া।
একবার যদি সালামের এই দোয়াগুলো কবুল হয়, তাহলে আমাদের অন্তর হবে নিষ্কলুষ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ সফলতা করবে পদচুম্বন। এই অমূল্য নিয়ামত অন্যান্য জাতির অভিবাদন পদ্ধতিতে কখনও পাওয়া যাবে না। অথচ এই মহা নিয়ামতকে ছেড়ে আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দিচ্ছি “গুডমর্নিং” আর “গুডইভেনিং”। এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? এগুলোতে না আছে দুনিয়ার ফায়দা, না আছে আখেরাতের ফায়দা। এর বিপরীতে সালামের প্রতিটি শব্দ দুনিয়া ও আখেরাতের সমূহ কল্যাণ ও সফলতায় ভরপুর। তাই আসুন, আমরা বেশি বেশি সালামের প্রচলণ করি।
সহায়ক গ্রন্থ: (রিয়াদুস সালেহীন-২য় খন্ড, তাফহীমুল কুরআন, ইন্টারনেট অবলম্বনে)