সিরাজগঞ্জে অন্যের জমি জালিয়াতি করে জায়গা দখল করলেন মেয়র

0
25

মোঃ সেলিম রেজা স্টাফ রিপোর্টার সিরাজগঞ্জ

ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জালিয়াতি করে অন্যের জমি গোপনে নিজের ছেলের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল পাঠানের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে জায়গার মালিককে বেদখল করে মেয়র ওই স্থানে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে যাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ পৌর এলাকার বেতুয়া দক্ষিন পাড়া মৌজা, জেএল নং-১২৪, আর.এস খতিয়ান নং-৩৮৫, আরএস দাগ নং-৬১৪ ফসলি জমি ২০০৯ সালে ৪৪৫৯/২০০৯ নং ভুমি বন্টনমানা দলিলের মাধ্যমে ভাগ বন্টন করে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন হযরত আলী। হযরত আলীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম, দুই পুত্র- সারোয়ার ও সাব্বির হাসান সেতু, দুই কন্যা- জান্নাতুল ফেরদৌস ও দিলরুবা ফেরদৌস শান্তিপূর্ন ভাবে ভোগদখল করে আসছে। হযরত আলী গং ৮ আগষ্ট ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই জমির খাজনা দিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগী সাব্বির হাসান অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল মান্নান গং বিজ্ঞ আদালতের উপর ৮৯/২০২০ সালে মামলা দায়ের করে জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে তফশিল ভূমি বেদখলের উদ্যোগ গ্রহন করে বিজ্ঞ যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে নালিশী ভূমি বাবদ আব্দুল মান্নান গংদের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ ২০২১ ইং তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত আব্দুল মান্নান গংদের প্রতি কারণ দর্শানোর আদেশ প্রদান করে। আব্দুল মান্নান গং বিজ্ঞ আদালতের কারণ না দর্শাইয়া সুকৌশলে রায়গঞ্জ পৌর সভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল পাঠানের ছেলে মোঃ সাজ্জাদ পাঠানের নামে ১২ শতক ৮৫ পয়েন্ট জায়গা ভুয়া একটি দান কবলা দলিল করে নেয়। মেয়র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় ভাবে বিবাদমান জমিতে জোরপূর্বক সি.এন.জি স্টেশন স্থাপনের জন্য মাটি ভরাট করছে।
এ ব্যাপারে আব্দুল মান্নান বলেন, পৌরসভার মেয়র আমার আত্মীয় হওয়ার সুবাধে তার ছেলেকে আমার জমিটি দান করে দিয়েছি।
রায়গঞ্জ পৌর সভার মেয়র আব্দুল্লাহ আল-পাঠান মুঠোফোনে জানান, দুইবার মেয়র হয়েছি। রাজনৈতিক প্রভাব একটু থাকবেই। তবে মান্নান গং-রা আমার ছেলের নামে দলিল করে দিয়েছে। সেখানে আমি মাটি ভরাট করি বা পুকুর খনন করি সেটা আমার ব্যাপার। বিবাদমান জায়গা আপনি নিলেন কেন এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, মেয়র হয়েছি ঝামেলাতো একটু নিতেই হবে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা মো. রাজিবুল আলম জানান, বিবাদমান এই জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক অফিস থেকে একটি নোটিশ পেয়েছি। দুই পক্ষকে ডেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।