সিরাজগঞ্জে তাড়াশে নির্মাণের এক মাসেই ধসে পড়ল পুকুরে

0
95
সেলিম রেজা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার পর পাওয়া পাকা সড়ক নির্মাণের এক মাসেই ধসে পুকুরে পড়ল। উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রাম পূর্বপাড়ার এ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণেই ভেস্তে গেছে সড়কটি। অসংখ্য জায়গায় ধরনা দিয়ে রাস্তার অনুমোদন মেলে। কিন্তু শুরুতেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ওঠে। এরপর দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে। ফের শুরু হলে খুব দ্রুত কাজ শেষ করেন ঠিকাদার। তখনও নিম্নমানের কাজ করেন তারা। ফলে এক মাসের মধ্যেই রাস্তার কয়েক জায়গা ধসে পড়ে। এর মধ্যে এক জায়গার প্রায় ৪০-৪৫ মিটার রাস্তা ভেঙে পুকুরে চলে যায়। ওই রাস্তা কাঁচা থাকাবস্থায় ভ্যান ও অটোগাড়ি চলাচল করলেও এখন সাইকেল ছাড়া কোনো যান চলাচল করতে পারে না,
তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮৫ লাখেরও বেশি টাকা ব্যয় ধরে ১ হাজার ১৫০ মিটার রাস্তাটির কাজ পায় তন্ময় এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ৫০ মিটার বাদ দিয়ে ১ হাজার ১০০ মিটার রাস্তার কাজ করে তন্ময় এন্টারপ্রাইজ। এলজিইডি ৫০ মিটার রাস্তা বাদ দিয়েই বিল পরিশোধ করে,
জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ জুলাই রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু করা হয় দেরিতে। তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের কাজ শেষ হয় ৩০ জুলাইয়ের মধ্যেই। একই দিনে কাজ হস্তান্তর করে তুলে নেওয়া হয় শতভাগ বিলও। ভাঙনের জায়গায় গাইডওয়াল দেওয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র কিছু খুঁটি দেওয়া হয়েছিল, এখন পানি চলে আসায় সেই জায়গাটিও সংস্কারও করতে পারছে না ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষ। ফলে তাদের এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি আরও বেশি প্রকাশ্যে চলে আসে।
এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সায়েদ বলেন, রাস্তাটিতে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ায় এবং কিছু অনিয়ম হওয়ায় আমরা মাঝখানে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরে কাজ শেষ করা হয়। তবে ধসে পড়া জায়গা বর্ষা শেষে মেরামত করে দেওয়া হবে।
রাস্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তন্ময় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এম এ আল বাকি বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে রাস্তাটি ধসে গেছে। আমার জামানত এখনো আছে। বর্ষার পর রাস্তাটি আবার সংস্কার করে দেব।
নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ায় কিছুদিন কাজ বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।