সিরাজগঞ্জে বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।

0
35

সেলিম রেজা সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হায়দার মুন্নার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারীরা। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষানুরাগী মরহুম মোকাদ্দেছ মোল্লার প্রচেষ্টায় ২০০৩ সালে বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউএনও ও কলেজ পরিচালনা কমিটির স্বাক্ষরিত রেজুলেশনে নিয়োগ পরীক্ষায় শিক্ষক ও জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। প্রভাষক পদে নাজমা আক্তার, প্রভাষক (বহুভাষাবিদ) পদে মোস্তফা সাদেকুর নুর, কম্পিউটার ল্যাবে আবদুল মালেক, অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে রফিকুল ইসলাম যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর বাঘুটিয়া হাই স্কুলের পাশের একটি ঘর রং করে রাতারাতি একটি বিশাল সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক জানান, ১৭ বছর আগে চাকরিতে যোগদান কালে কলেজ উন্নয়ন তহবিলের নামে বিভিন্ন পদের জন্য মোটা অংকের টাকা নেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুল হায়দার মুন্না, এরপর বিভিন্ন সময় কলেজ এমপিও হবে এমন অজুহাতে দফায় দফায় টাকা নেন তিনি। তারপরও এখন আমাদের (শিক্ষক) বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ভুয়া তথ্য সংযুক্ত কাগজপত্র এমপিও সুযোগ সুবিধার জন্য তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় যুগ পরিশ্রম করে এখন কলেজের চাকুরি টিকিয়ে রাখতে উচ্চ আদালতে রিট করতে হয়েছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে। চাকুরিচ্যুত শিক্ষক মোস্তফা সাদেকুর নুর জানান, পূর্বের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে এমপি ভুক্ত হওয়ায় পর আরও পাঁচ লাখ টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন অধ্যক্ষ কামরুল হায়দার মুন্না। তার চাহিদা মত টাকা দিতে না পারায় শিক্ষা তথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) শিক্ষক, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মিলে মোট ১০জনের নামের তালিকা প্রেরণ করেন। ওই তালিকায় কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের বদলে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নতুন শিক্ষকদের নাম প্রেরণ করেছেন। তিনি আরও জানান, আমার পদে (প্রভাষক বহুভাষাবিদ) টাঙাইলের করোটিয়া এলাকার মারুফ হোসেনকে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র ও সাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে মারুফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে বৈধ নিয়োগ পত্র আছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি আরও কাউকে নিয়োগ দেন সেটাতো আমি জানি না, মামলা যে কেউ করতেই পারেন। আপনি চাইলে কাগজপত্র সাথে নিয়ে আমি দেখা করবো।
এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানিকগঞ্জ সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, ১জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারীর বৈধ নিয়েগ বাতিল করা হয়েছে। মর্মে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
এব্যাপারে কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মোশারফ হোসেন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ এমপিওভুক্তির বিষয়টি তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মুঠোফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুল হায়দার মুন্নাকে। এ ব্যাপারে বাঘুটিয়া কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান রয়েছে।