সিরাজগঞ্জে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমছে না দালাল চক্রের আনাগোনা,

0
9

সেলিম রেজা সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রায় চার লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার অন্যতম স্থান হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বত্রই দালাল চক্রের আনাঘোনার কারনে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ পড়ছে দালালদের খপ্পরে। এতে করে চিকিৎসা সেবা প্রার্থীদের চরম বিভ্রান্তিতে পরতে হচ্ছে, পাশাপাশি পরিক্ষা-নিরীক্ষার নামে খোয়াতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
১০ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত যে কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন তাদের চেম্বারে সামনে এদের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মত, রোগী যখন চিকিৎসা নিতে ডাক্তারের চেম্বারে প্রবেশ করছে সাথে সাথে দালালরা তাকে ঘিরে ধরছে, যার কারণে ডাক্তার রোগীর সমস্যা কথা সঠিক ভাবে শুনতে পারছে না। যতোটুকু শোনের তার বিপরীতেই ব্যবস্থাপত্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য পরিক্ষা লিখে তা রোগী হাতে দেওয়ার আগেই চলে যায় দালাল চক্রের হাতে। যার কারণে রোগীদের ছুটতে হয় দালালের পিছনে। তারপর বাধ্য হয়ে তাদের মনোনিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়ে উচ্চ মূল্যে পরিক্ষা নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এমন চিত্র দেখে সেবা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বললে তারা প্রতিবেদককে জানায়, এই চিত্র নতুন কিছু না। আমরা বরাবরই দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে আছি। ডাক্তার দেখালেই তাদের হাতে প্রেসক্রিপশন দিতে হয়। না দিলে পিছনে পিছনে ঘোরা ফেরা করে। দালালরা বলে, আমাদের মতের বাহিরে পরিক্ষা করালে ঐগুলো ডাক্তার দেখবে না। এগুলো দালালরা বলার সাহস পায় হসপিটাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে , তাই বাধ্য হয়ে আমাদের তাদের মনোনীত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে টেস্ট করাতে হয়। শুনেছি এই টেস্টের কিছু কমিশন পায় ডাক্তার ও দালালরা। আমরা রোগীরা পরে আছি মহাবিপদে। চিকিৎসা তো করাতেই হবে। এদের কথার বাহিরে গেলে তো আমাদের আবার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই প্রথমে এদের বিরুদ্ধে কথা বললেও দেখি ঘুরে ফিরে আমাদেরই বিপদ হয়। তাই আর বলি না। চুপচাপ সব সহ্য করে চিকিৎসা নিয়ে যাই। তাতে টাকা পয়সা যা লাগে তাতে কোন আর আপসোস নাই। তবুও তো একটু হলেও চিকিৎসা পাচ্ছি।
এবিষয়ে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম ডাঃ মোফাখখারুল ইসলামের কাছে মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমি কয়েকদিন পূর্বে এদের ডেকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে নিষেধ করেছি। তাছাড়া দালালের বিষয়ে আমার কাছে কোন রোগী অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করতে হবে আমার কাছে। সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করলে কি হবে? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। তবে আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।