সি-আর-বি তে হাসপাতাল নির্মাণ ও সরকারের ভিতর-বাহির।

0
43

আমরা সবাই জানি পরিবেশ বিপর্যয় বর্তমান সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমূহের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে বিপর্যয় ঠেকাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের সরকার কেন এর বিপরীত! রামপাল থেকে মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ, সুন্দরবন থেকে সি-আর-বি ধংসের মতো ঝুঁকি কেন নিচ্ছেন??
তাহলে কি সরকার না বুঝেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?
উত্তর হচ্ছে- না!
বিগত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার। জনগনের উপর শোষণ-নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ১৪ সাল এবং ১৮ সালে বিনা ভোটে ক্ষমতায় বসছে। যেখানে হার্ড অ্যান্ড সোল সহযোগীতাকারী হিসবে ছিল ভারত এবং বাংলাদেশের কিছু পুঁজিবাদী মাফিয়া চক্র।
যার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি প্রকৃত রাজনীতিবিদদের হাত থেকে চলে যায় ঐ হার্ড অ্যান্ড সোল সহযোগিতাকারী গোষ্ঠীগুলোর হাতে যার স্বচ্ছ উদাহরণ বর্তমান সংসদে প্রায় ৭০% সাংসদ ব্যবসায়ী।
এখন ঘটনা হচ্ছে যার উপর ভর করে তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে তার কিছু আবদার তো তোমাকে রক্ষা করতেই হবে!!
ঠিক সেরকম বিনা ভোটের সরকারকে টিকিয়ে রাখার প্রধান সহযোগী ‘ভারতের’ আবদার রক্ষা করতে সুন্দরবনের মতো বিশ্ব স্বীকৃত বন অঞ্চলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ সরকার। যার প্রতিবাদে সারাদেশে আন্দোলন, পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবাদী সংগঠন গুলোর বারবার সতর্ক বার্তার পরও সবকিছুকে তোড়ায় কেয়ার করে ভারতের হাতে তোলে দেয় বাংলাদেশের প্রাণ সুন্দরবন ধংসের চাবি।
এখন চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের সচেতন মানুষের কাছে প্রধান আলোচ্য বিষয় সি-আর-বি তে হাসপাতাল নির্মাণ। যমুনা টিভির প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনেছি বার্ষীক এক কোটি টাকা এবং এককালীন ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে ইউনাইটেড কোম্পানিকে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ফ্যাসিবাদী সরকার কি এক কোটি টাকার জন্য মরিয়া হয়ে এই চুক্তি করেছে??
উত্তর হচ্ছে-মোটেও না।
ঐ যে বলেছিলাম ফ্যাসীবাদ সরকারের রক্ষা কর্তা হার্ড অ্যান্ড সোল সহযোগিতাকারীর একটি হচ্ছে এই পুঁজিবাদী মাফিয়া চক্র। যার আবদার এবং অবৈধ চেয়্যার টিকিয়ে রাখার সরল চুক্তি হচ্ছে জনগনকে ঝোঁক সম চোষে সম বন্টনে ভাগ করে খাওয়া।
এই রাষ্ট্র সিস্টেমের কোন ছিদ্র সম অংশেও জনকল্যাণের ছিটেফোঁটা লিখা নেই।
তাই এখনই সোচ্চার না হলে মধ্য বিত্ত-নিন্ম বিত্ত মানুষের কাছে ছেঁড়া লুঙ্গির ন্যায় যা কিছু অবশিষ্ট আছে তাও একদিন গ্রাস করে ধনিক শ্রেনীর বিলাস প্রজেক্ট বানাবে।
যেমন বানানো হয়েছে কাজির দেউড়ি খেলার মাঠে সুইমিংপুল- কেড়ে নেওয়া হয়েছে জাম্বুরি পার্ক খেলার মাঠ।

এরশাদুল ইসলাম রুহাদ
সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ
চট্টগ্রাম মহানগর।