হবিগঞ্জে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)

0
30

বিশেষ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য ভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

আজ (৫ জুন) শনিবার বিকালে হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই মুখে নদীতে নিক্ষিপ্ত আবর্জনার স্তুপের সামনে দাড়িয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার এর আয়োজনে এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন দাবী সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জনাব অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এতে মূল বক্তব্য রাখেন খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার ও বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক জনাব তোফাজ্জল সোহেল।

এই কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তানভীর আহমেদ, শফিকুল ইসলাম বাবুল, ডাঃ আলী আহসান চৌধুরী পিন্টু, মনসুর আহমেদ, মোঃ সাইফুল ইসলাম, আবিদুর রহমান, শামসুল ইসলাম সানি, পরিমল সুত্রধর, পীযুষ দাস, ফারহান আহমেদ, আবুল কাসেম রুবেল, কিতাব আলী প্রমুখ।

উক্ত কর্মসূচির বিভিন্ন বক্তারা তাদের বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন – হবিগঞ্জে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছেনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে হবিগঞ্জ দিন দিন আবর্জনার শহরে পরিণত হচ্ছে। এই শহরের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খোয়াই নদীতে, পুরাতন খোয়াই, বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খাল, আধুনিক স্টেডিয়াম সংলগ্ন খাল তাছাড়া পুকুর ও জলাশয় আজ ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিনত হচ্ছে। যে জন্য এলাকার মানুষকে দুর্গন্ধময় ও আবর্জনায় আবদ্ধ অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে। ফলে হবিগঞ্জের পরিবেশ ও জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তুলেছে।

বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের নদী-জলাশয়গুলো বছরের পর বছর ধরে দখল-দূষণ, পলি ও আবর্জনায় পতিত হয়ে অনেকাংশ বুজে এসেছে। শহরের খোয়াই মুখ এলাকায় খোয়াই নদীতে কয়েক বছর ধরে নিক্ষেপ করা ও জমা হওয়া বর্জ্যের স্তুপে নদীটি অনেকাংশে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। এলাকাটি হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর। শহরের পুরাতন খোয়াই নদী প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এই নদীটির অবস্থা ভয়াবহ। দখল-দূষণে মাত্রা ছাড়িয়েছে। অথচ এই নদীটি বৃষ্টির পানি, অন্যান্য পানি নিষ্কাশন, নদীর পাড়ে যাতায়াত ও সুন্দর পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং ভূমি দখলকারীদের অবৈধ দখলের কারণে পুরাতন খোয়াই নদী আজ বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, কৃত্রিম বন্যা, আর শুষ্ক মৌসুমে মশা-মাছি উৎপন্ন হয়ে নদী তীরবর্তী এই শহরের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দুই বছর আগে পুরাতন খোয়াই নদীর একাংশ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু সেই কার্যক্রম থেমে যাওয়ায় উচ্ছেদকৃত অংশ পুনরায় দখলদারদের আয়ত্বে চলে যাচ্ছে।
এছাড়া আধুনিক স্টেডিয়াম ও নিউফিল্ডের উভয় দিকের খাল ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। এই স্থানটিকে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে রূপান্তরিত করার ফলে চরম দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে খেলোয়াড়দের খেলাধুলা করতে হচ্ছে এবং পাশ্ববর্তী স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ লোকজনকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি আবর্জনামুক্ত স্বাস্থ্যকর শহর গড়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নদী, খাল ও পুকুরগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখননসহ সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।