হাটহাজারীতে নতুন নিয়ম, ছাত্রদের কাছে স্মার্টফোন পেলেই কঠোর ব্যবস্থা

0
37

চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় ছাত্র ভর্তিতে এ বছর বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়মে মাদ্রাসার ছাত্রদের কাছে স্মার্টফোন পেলেই নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। এছাড়া নতুন নিয়মে জানা যায়, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা থাকলে মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারবে না কেউ।

শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার কোনো ছাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে সেটি ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন থাকা যাবে না। থাকলে ব্যবস্থা নেবে মাদ্রাসা প্রশাসন। গত ১৮ মে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মভিত্তিক কওমিপন্থী আলেমদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ওই সংগঠনের নেতাদের মাদরাসাগুলো নিয়ে দেশে নানা ইস্যুতে কওমি আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের চলমান সংকট নিরসনে এবং সরকারের চাপের মুখে

পড়ে হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এটি প্রথমবারের মতো নয়, কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে এসব শর্ত চালু রেখেছে। মাদরাসার এসব কার্যক্রম মজলিসে এদারী (মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ) ও মজলিসে ইলমি’র (মাদ্রাসা শিক্ষা পরিচালনা পরিষদ) সদস্যরা সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পরিচালনা করে আসছে।

জানা গেছে, আগামী ৩০ মে চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদরাসার সব বিভাগে নতুন ও পুরাতন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মোবাইল ফোন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

মাদরাসায় ছাত্রদের ভর্তিতে এসব শর্তের বিষয়ে মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা ইয়াহইয়া বলেন, এ দেশের বেশিরভাগ কওমি মাদ্রাসা ভারতের দেওবন্দের আকিদায় অনুসরণ করে। বহু বছর ধরে দেওবন্দের অনুসরণ করে হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কওমি আকিদার সক্রিয়তা বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ভর্তি কার্যক্রমসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তিনি আরও কলেন, কওমি আলেমদের কাছে রাজনৈতিক কোনো অভিলাষ নেই।

যাদের কাছে রাজনৈতিক কোনো অভিযোগ নেই, রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই, তারা তাদের শিক্ষার্থীদের কখনো রাজনৈতিক অভিলাষ তথা-রাজনীতি করার জন্য উৎসাহ বা উদ্দীপনা যোগায় না। আর এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আমাদের মাদ্রাসায় রাজনৈতিক বা কোনো অরাজৈনতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থীকে এ মাদ্রাসায় ভর্তির অনুমতি দিয়ে থাকি না।