1. mdsujan458@gmail.com : Habibur Rahman : Habibur Rahman
  2. hridoy@pipilikabd.com : হৃদয় কৃষ্ণ দাস : Hridoy Krisna Das
  3. taspiya12minhaz@gmail.com : Abu Ahmed : Abu Ahmed
  4. md.khairuzzamantaifur@gmail.com : তাইফুর রহমান : Taifur Bhuiyan
  5. admin@swadhinnews.com : নিউজ রুম :
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাচ্ছে সেই তালগাছ ও বাবুই পাখির বাসা!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১
  • ২০৯ বার পঠিত

(কিশোরগঞ্জ)

তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা এ যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটিকে নিয়ে ভাবা যায় না। শুধু তালগাছকে নিয়ে ভাবলে, বাবুই পাখির বাসা এমনিতেই যেন চোখে ভেসে আসে। অপরদিকে বাবুই পাখির বাসাকে নিয়ে ভাবলে, তাল গাছের ছবি যেন চোখের সামনে চলে আসে। আবহমান কাল থেকেই বাংলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে এরা। একটি যেন অপরটির পরিপূরক।

অথচ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই তালগাছ আর নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির বাসা। কালের আবর্তনে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সেই তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা- এ দুই-ই যেন আজ আমরা হারাতে বসেছি। তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে কতই-না কবিতা রয়েছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তালগাছকে নিয়ে লিখেছেন, তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে। মনে স্বাদ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়, একেবারে উড়ে যায়; কোথা পাবে পাখা সে?
অপরদিকে বাবুই পাখিকে নিয়ে কবি রজনীকান্ত সেন লিখেছেন, বাবুই পাখিকে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।

অথচ একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছ দেখা যেত। আর সেই তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে আরো ফুটিয়ে তুলতো। দেখে মনে হতো তাল গাছ যেন তার কানে দোল পড়ে আছে। কিন্তু এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টিনন্দন পাখি, তার বাসা, বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য ও গ্রামের ঐহিত্যবাহী তালগাছ এ দুটোই আজ বিলুপ্তির পথে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একসময় যেসব গ্রামে সারিসারি তালগাছ ছিল, সেইসব তালগাছের পাতায় পাতায় মোড়ানো থাকতো বাবুই পাখির বাসা। পাশাপাশি পাখির কিচির-মিচির শব্দে গ্রামাঞ্চল মুখরিত থাকতো। সেইসব গ্রামে এখন আর তালগাছও নেই, বাবুই পাখির বাসাও নেই। ১৪-১৫বছর আগেও গ্রামের রাস্তা-ঘাট, পুকুরপাড় ও মাঠের মধ্যে সারিসারি তালগাছ ছিল। আষাঢ় মাস আসার আগে থেকেই বাবুই পাখি বাসা বুনতে শুরু করতো। তখন কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকতো পুরো গ্রাম। এখন হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি তালগাছ চোখে পড়ে। এখন আর মুখরিত হয়না কিচির-মিচির শব্দে গ্রামবাংলার জনপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের অপব্যবহার, শিকারিদের দৌরাত্ম, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, মানববসতি বাড়ায় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে তালগাছ ও এ পাখি বিলুপ্ত হতে বসেছে। তবে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকায় পাকা সড়কের পাশে একটি তালগাছে অর্ধশত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা গেছে। যা একনজর দেখতে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা একটু হলেও থমকে দাঁড়ায়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সকল বন্যপ্রাণিই একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাস করে থাকে। মানুষের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জনবসতি বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে বড়বড় গাছপালাসহ জঙ্গল কেটে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে বাবুই পাখিসহ সকল শ্রেণির বন্যপ্রাণির নিরাপদ আশ্রয়স্থল নষ্ট হচ্ছে। একারণেই মূলত গাছ ও বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2021 SwadhinNews.com
Design & Developed By : PIPILIKA BD