advertisement

হেঁটে ‘মেঘালয় থেকে ময়মনসিংহ’ মিশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছুটে গিয়েছিলেন রণাঙ্গনে। ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের পাহাড়ি আঁচলে ঢাকা আদিবাসী গ্রাম তেলিখালী থেকে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী আর বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করতে এবার তিনি নেমেছেন ব্যতিক্রমী এক মিশনে।

যুদ্ধের সেই স্মৃতিবিজড়িত হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ নগরী পর্যন্ত হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চান দিবসটিকে। তিনি পদযাত্রার নাম দিয়েছেন ‘মেঘালয় থেকে ময়মনসিংহ’।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন উদ্যানে কথা হয় একাত্তরের এ বীর সেনানীর সঙ্গে । তিনি জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবসের ভোরে শুরু করবেন তার পদযাত্রা। সেই প্রস্তুতিই চলছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে এ দিবসটি উদযাপন করেছে। কিন্তু আমি ব্যক্তি হিসেবে আমার অর্থের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলেও হাজারো মানুষকে একত্রিত করতে পারব না। তবে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমারও এ নিয়ে কিছু করার চিন্তা ছিল। সেই চিন্তা থেকেই আমি ৫০ কিলোমিটার হেঁটে দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এবার হেঁটেই তিনি শেষ করবেন তা কিন্তু নয়। প্রতি বছর এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এ বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, এই পদযাত্রাটি অব্যাহত থাকবে। আগামী বছর বিজয়ের ৫১ বছরে আমি হাঁটব ৫১ কিলোমিটার। এভাবে যতদিন আমি জীবিত থাকব কিংবা শারীরিকভাবে আমি সক্ষম থাকব ততদিন আমি এটি চালিয়ে যাব। যখন আমি না পারব তখন নতুন প্রজন্মের যারা আছে, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের আমি আহ্বান করব এটি ধরে রাখার জন্য। আমার মৃত্যুর পর এ কাজ যেন থেমে না যায় সেজন্য আমি আমার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে অন্ততপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার একটি তহবিল আমি রেখে যাব।

৫০ কিলোমিটার হাঁটার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন জানিয়ে বিমল পাল বলেন, আমি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটি। এখন ভোর ছয় থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হেঁটে নিজেকে ঝালাই করে নিচ্ছি। ইতোমধ্যে গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা পর্যন্ত অন্তত ২৫ কিলোমিটার হেঁটেছি। এতে আমি বেশ সাহস পাচ্ছি। মূল পদযাত্রার আগে একবার ময়মনসিংহ হেঁটে হালুয়াঘাট যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

৫০ কিলোমিটার হাঁটার পরিকল্পনার বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল জানান, ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস। ওইদিন ভোর ৬টায় শুরু করবেন হালুয়াঘাট থেকে। সঙ্গে থাকবে একটি অ্যাম্বুলেন্স। সঙ্গে আরও অনেকেই থাকতে পারেন। অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছনে রেখে তিনি হাঁটবেন। মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেবেন। এভাবে তিনি বিকেল ৪টার দিকে পৌঁছাবেন ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম জয় বাংলা চত্বরে।

বিমল পালের চাওয়া, এই পদযাত্রায় পাটগুদাম জয় বাংলা চত্বর থেকে টাউন হল পর্যন্ত যেন তার সঙ্গী হন সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সদস্যরা। তাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের পাশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নগরের টাউন হল চত্বরে এই পদযাত্রা শেষ করতে চান তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পালের বয়স এখন ৬৯ বছর। তবে তার মনোবল যেন ১৭ বছরের টসবগে তরুণ। জীবন সায়াহ্নে এসেও এখনো তিনি ঘুরে ঘুরে তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেরি করে বেড়ান মুক্তিযুদ্ধের গল্প। সেজন্য সবার কাছে তিনি পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের গল্পের ফেরিওয়ালা হিসেবে। এছাড়াও তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুক্ত থাকেন নানা সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজেও।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -spot_img

সর্বাধিক পঠিত