২০২১ সালের মাঝে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুরুই হয়নি শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কার্যক্রম

0
15

আব্দুর রহমান ঈশান
বিশেষ প্রতিনিধি,
স্বাধীন নিউজ

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের ধীরগতি এবং যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনোও দৃশ্যের বাইরে। ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় নেত্রকোণায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২৬৩৭.৪০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়া হয়। স্থানীয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ভবনে অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। আবাসিক বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আবাসন এর চাহিদা মেটানো হচ্ছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলে মনে করছেন, দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কার্যক্রম বেগবান করা সম্ভব হবেনা।

২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম টেন্ডার আহব্বান করা হয়। পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৪৩টি টেন্ডারের মধ্যে মাত্র চারটি ই- টেন্ডার আহবান করা হয়। এরমধ্যে, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জন্য ২৪০ কোটি, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য ১১৮ কোটি, একাডেমিক ভবনের জন্য ১১৪ কোটি ও স্কুল এন্ড কলেজের জন্য ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, উক্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার কমিটি টেন্ডার প্রক্রিয়া মূল্যায়ন শেষে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় রফিক উল্লাহ খানের স্বাক্ষরসহ নথি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে মাননীয় সচিব, উপমন্ত্রী ও মন্ত্রীর স্বাক্ষর সম্বলিত নথি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সময় বর্ধিতকরণের নথিটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে না যাওয়ায় মূল নথিটি উপস্থাপন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

চলমান অর্থবছরে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজগুলো শুরু না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যাশিত উন্নয়ন আরো হেলিয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রী যদি এ বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন তাহলে খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে।

নেত্রকোনা জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সহিত সম্পন্ন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণকৃত ভুমির মালিকদের মাঝে পর্যায়ক্রমে অর্থের চেক বিতরন করা হবে।

এদিকে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিডি সেলিম আহমেদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমাদের থেকে সকল নথিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। উপর থেকে নির্দেশনা পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. রফিক উল্লাহ খান জানান, জমি অধিগ্রহণ ও মাস্টার প্ল্যান তৈরিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজই দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া ওয়ার্ক অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্দেশনা পেলেই আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে। দৃশ্যমান এই কাজগুলো হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম আরো বেগবান হবে