৬ মে থেকে চলতে পারে গণপরিবহন

0
74

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংগৃহীত ছবি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ৬ মে থেকে জেলার ভেতরে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচল শুরু হতে পারে। রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এমন সুপারিশ করা হয়েছে
এর আগে শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহন চালুর চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

সে সময় বিক্ষোভে না গিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধৈর্য ধরারও আহ্বান জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার চলামান লকডাউনের মেয়াদ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। নতুন এ বিধি-নিষেধে কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। তবে ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস থাকায় কিছুটা শিথিল করে ফের লকডাউন বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। পাশাপাশি সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালানোর বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে আগামী ১২ মে (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। রমজান মাস যদি ২৯ দিনে শেষ হয় তবে ঈদুল ফিতর হবে ১৩ মে। এ ক্ষেত্রে ১৩ ও ১৪ মে (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) ঈদের ছুটি থাকবে। তবে রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদের ছুটি আরো এক দিন বাড়বে, সে ক্ষেত্রে ১৫ মে (শনিবার) ছুটি থাকবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ের ওপর আমাদের চিন্তাভাবনা চলছে যে আমরা কী করব।

পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের সবসময় গণমানুষের সংস্পর্শে থাকতে হয় বলে তারা যেমন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন, তেমনি যাত্রীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। সে বিবেচনায় গণপরিবহন বন্ধ রাখা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু, পরিবহন শ্রমিকদের জীবিকার নিশ্চয়তার বিষয়টিও ভাবা দরকার। গার্মেন্টস, শপিংমল, কাঁচাবাজার ইত্যাদি খোলা রেখে শুধু গণপরিবহন বন্ধ রেখে লকডাউন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে শ্রমিকদের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

যাত্রীরা অটোরিকশা, কার, মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে দূরদূরান্তে চলাচল করছে উল্লেখ করে তারা বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তাদেরকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও নানা হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে। এতে তাদের যেমন অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি হয়রানি ও করোনার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাস রোধে সরকার প্রথম ১৪ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। এতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে না আসায় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ ফের বাড়ানো হয়। পরে ফের আগামী ৫ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার।