​সার্বিক উন্নয়নে বাণেশ্বর্দী ইউনিয়নকে এগিয়ে রাখতে চাই সবার আগে:চেয়ারম্যান মহব্বত

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-

শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন ৫নং বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের ২ বারের সফল চেয়ারম্যান মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত।তিনি তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে এবারও প্রার্থী হয়েছেন।

দেশের বর্তমান রাজনীতি,
নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের চিন্তা-ভাবনার কথা জানালেন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়।তার সাথে কথা বলে উঠে এসেছে দেশের নানান বিষয়।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন:
মাজহারুল আনোয়ার মহব্বতের সঙ্গে স্বাধীন নিউজ’র প্রতিবেদকের একান্ত সাক্ষাৎকার-

প্রশ্ন : দলীয় নৌকা প্রতীক না পেয়েও কেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বার চেয়ারম্যান হতে চান?ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে আপনার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বতঃ-আমি সহ ৯ জন বাণেশ্বর্দী ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম দল যাকে পছন্দ করেছে মনোনয়ন দিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমার এলাকার জনগণ তাদের নৌকার প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলে অতপঃর আমি তাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সকলের দোয়া ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে পদপদবি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হওয়ার চাইতে জনগণের প্রতিনিধি হতেই পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছি।

ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর্দী ইউনিয়নকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি পরিষদের আওতাধীন সকল রাস্তা,
ব্রিজ,কালভার্ট,পানি নিষ্কাশনের জন্য সু-ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন : আপনার এলাকার সাধারণ মানুষের প্রধান পেশা কী ?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত : কৃষিই এখানকার মানুষের প্রধান পেশা। ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এখানে নিম্ন আয়ের মানুষ খুবই অসহায় অবস্থায় থাকে।এরা ঢাকায় বা দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবন ও জীবিকার টানে পোশাক কারখানা কিংবা দিন মজুরের কাজ করে থাকে।

প্রশ্ন : আপনার ইউনিয়নে শিক্ষিত বেকার ও অশিক্ষিত যুবকদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত : শিক্ষিত বেকারদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা,তাদেরকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য পরামর্শ দেয়া।অশিক্ষিত বেকারদের কৃষি কাজ,গবাদী পশু পালন,মুরগির খামার,মৎস্য চাষে উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা।

প্রশ্ন : আপনি সরকারি সহায়তা,দান,অনুদান কী কী পেয়েছেন?তার বণ্টন ব্যবস্থায় কী কী দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত: শেরপুর নকলা- নালিতাবাড়ী
আসনের সম্মানীত এমপি বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচিত এলাকা হিসেবে উক্ত ইউনিয়নে সরকারের সহায়তায় দান-অনুদান এবং এলাকার উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখযোগ্য।মরণঘাতী করোনাকালীন মহামারির সময় সাধারণ গরীব অসহায় সকল ধরনের মানুষের পাশে থেকে সাধ্যমত সহযোগীতা করে এলাকার বহু মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি। বর্তমানেও অসহায়,নির্যাতিত,অবহেলিত
মানুষদের পাশে অবস্থান নেয়ার প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছি।

এলাকায় বেশির ভাগ রাস্তাঘাট পাকা করা হয়েছে আর যেগুলো বাকি আছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পাকা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।পুল-কালভার্ট নির্মাণ, পুষ্টিভাতা,গর্ভবতী মায়েদের ভাতা,বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা,পঙ্গুভাতার সঠিক এবং সুষম বণ্টনের চেষ্টা করা হয়েছে। হতদরিদ্রদের মাঝে সরকারের দেওয়া আবাসনের ঘর সুষ্ঠু বণ্টন উল্লেখযোগ্য।

প্রশ্ন : বাণেশ্বর্দী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী ছিল এবং দায়িত্ব কতটুকু পালনে সক্ষম হয়েছেন?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত : একজন চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ পরিচালনার জন্য সচিব,গ্রাম পুলিশ এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়ে অফিস পরিচালনা করা,ছুটি ও বেতন দেওয়া এবং তারা যথাযথভাবে অর্পিত কাজ পালন করছেন
কিনা,সেটা মনিটরিংয়ে রাখা আমার দায়িত্বের মাঝে পড়ে। বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে সমাধানের চেষ্টা করেছি।এলাকার অপরাধ দমন,শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দাঙ্গাহাঙ্গামা প্রতিরোধ করার জন্য জেলা প্রশাসন,জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি।
মূলকথা,প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি ও জনগণের টিমওয়ার্কের ফলাফলই হলো একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন। এজন্য এই তিনটি উপাদানের মেলবন্ধনের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন : বাণেশ্বর্দী ইউনিয়ন নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত : বিগত দশ বছরে ইউনিয়নে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি-গ্রামকে শহরে পরিণত করা।সেই লক্ষ্যে আমার একটাই পরিকল্পনা, এই ইউনিয়নকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলা, যাতে দেশের অন্যান্য গ্রামাঞ্চল এর চাইতে উন্নতির সকল সূচকেই এগিয়ে থাকে এবং উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হয়ে জনসাধারণ যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়।আমি সারাজীবন এই পদে থাকব না।অতএব আমি থাকাকালীন এমন প্রসেস নিশ্চিত করা,যাতে করে আমার অবর্তমানেও বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন পূর্ণগতিতে চলমান থাকে।

পরিশেষে মহব্বত বলেন,
এ সেবাই জনগণ আমাকে আবারও জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলে ভোট দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। আমি বিগত দুইবার এলাকার সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি এবং তাদের দেয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করার লক্ষ্যে প্রাণপন চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন,‘সরকারের উন্নয়ন ধারা ত্বরান্বিত করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, এছাড়াও মাদক,জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাজহারুল আনোয়ার মহব্বত।

এই সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরে সরেজমিন ঘুরে মতামত সংগ্রহের সময় এলাকার স্থানীয় আব্দুর রফিক বলেন, ৫নং ইউপি চেয়ারম্যান একজন জনবান্ধব চেয়ারম্যান যার দরুণ সমাজ সেবায় অবদান রাখায় অতীতে বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুরস্কার লাভ করেছেন। ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ আহালু ও শামছুল হক জানান,আমাদের চেয়ারম্যান করোনার সময়ে ছুটে যান অসহায় মানুষের পাশে ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্য বিতরণে।প্রচণ্ড কনকনে শীতের দিনেও গভীর রাতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার এবং কম্বল বিতরণের রেকর্ডও রয়েছে তার।

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -