শীতকালকে বলা হয় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে যথার্থ সময়।

হাবিবুর রহমান সুজন।

শীতকালকে বলা হয় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে যথার্থ সময়। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ দু’মাস শীতকাল থাকে। আর এই দুই মাসে স্বাভাবিকভাবে মানুষের ভ্রমণের প্রবণতা বেড়ে যায়। শীতকালে প্রকৃতিজুড়ে একটা আরাম-আরাম আমেজ থাকে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোয় শীতকালের আরামদায়ক আবহাওয়া যেন কিছুটা স্বস্তিই নিয়ে আসে জনজীবনে। তাই এসব অঞ্চলের মানুষ শীতকালকেই বেছে নেয় ভ্রমণের জন্য। তাছাড়া, দেহ ও মন সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত ভ্রমণ খুব কার্যকর একটি উপায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভ্রমণ, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অন্যতম একটি মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।

বছর শেষের এই সময়টায় বাচ্চাদের স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়, নতুন ক্লাসের সময় শুরু হওয়ার আগে কিছুটা সময় থাকে নতুন কোথাও ঘুরে আসার জন্য। সারাবছরের ক্লান্তিকর কাজ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে তাই অনেকে বছরের এই সময়টা ভ্রমণের জন্য বেছে নেন। কোথাও থেকে ঘুরে এসে আবার নতুন বছরে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই ডিসেম্বরে আছে আনন্দের উপলক্ষ, কারণ ডিসেম্বরের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এ বছর যোগ হচ্ছে । তাই এর আগে বা পরে দুদিন ছুটি বাড়িয়ে নিতে পারলে অনেক দিন ধরে প্ল্যান করতে থাকা সেই বিশেষ ট্যুরটা এবার দিয়েই আসতে পারবেন আপনি!

শীতকালে ভ্রমণের প্রবণতা থাকায় টিকিট বা পরিবহন কোম্পানি ও হোটেলগুলো এ সময় নানা ছাড় দিয়ে থাকে। আর এই ছাড় উপভোগ করে ভ্রমণ করতে ট্যুর কোম্পানিগুলো দেয় বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ। সেখান থেকে অনেকে নিজের পছন্দ, সামর্থ ও সুবিধা অনুযায়ী ট্যুর প্যাকেজ বাছাই করে থাকেন। কিন্তু একটি যথার্থ ট্যুরের পরিকল্পনা আসলে খুব কঠিন ও বিরক্তিকর মনে হতে পারে। বিশেষ করে এখন ট্যুর-সংক্রান্ত সব সেবা অনলাইনে আসার পর অফলাইন থেকে এক-এক করে বাছাই করে ট্যুর পরিকল্পনা করা কারও কারও কাছে ভোগান্তি মনে হতে পারে।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা অফলাইনের ভোগান্তির কারণে ট্যুর পরিকল্পনা করতে চান না। অনেক সময় এমনও হতে পারে, এভাবে কোথাও গিয়ে আপনার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেছে। কোথাও হয়তো হোটেল বুকিং দেওয়া ছিল, হোটেলে পৌঁছে দেখেন সেই বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ আপনাকে তা জানায়নি; আবার সেটি এমন কোনো সময় বা জায়গায় যেখান থেকে নতুন করে হোটেল খুঁজে বের করাটা আপনার জন্য অনেক কষ্টকর। এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভ্রমণ শেষে আপনাকে চাঙা করার বদলে বরং শরীর আর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা কারোরই কাম্য নয়।

অফলাইন ট্যুর পরিকল্পনার এই ভোগান্তি থেকে বাঁচিয়ে ভ্রমণের আনন্দকে তরতাজা রাখতে বর্তমানে অনেক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) কাজ করে যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর আধুনিক সুবিধা উপভোগ করে অনলাইনেই ভ্রমণের পুরো পরিকল্পনা সেরে ভ্রমণ-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে পারেন আপনি। কোথায় যাবেন, বাজেট কেমন হবে, কীভাবে টিকিট কাটবেন, কোথায় থাকবেন, খাবেন, ঘুরবেন–ওটিএতে সব কিছুর ব্যবস্থা করা যায় স্বাচ্ছন্দ্যেই।

শেয়ারট্রিপের মতো অনলাইন ট্র্যাভেল প্ল্যানিং প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে আপনার পরবর্তী ট্যুরকে আরও স্বস্তিময় আর আরামদায়ক করে নিতে পারেন আপনিও। তাছাড়া অনেক সময় বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোয় হোটেল বা রিসোর্টে থাকা, বাস, ট্রেন বা প্লেনে যাতায়াতসহ নানা ক্ষেত্রে ওটিএগুলোয় পাওয়া যায় আকর্ষণীয় ছাড় ও অফার সুবিধা। তাহলে বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনদের নিয়ে সহজেই নতুন কোথাও থেকে ঘুরে আসার প্ল্যানটা করে ফেলতে আর দেরি কেন?

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখার দায়ভার লেখকের নিজের, স্বাধীন নিউজ কতৃপক্ষ প্রকাশিত লেখার দায়ভার বহন করে না।
এই বিভাগের আরও খবর
- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত

- Advertisment -