Swadhin News Logo
Thursday , 21 August 2025 | [bangla_date]
  1. best
  2. cassinoBR
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কৃষি ও প্রকৃতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. জোকস
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাস
  15. বই থেকে

তদবির না রাখায় প্রকৌশলীকে মারতে উদ্যত বিএনপি নেতা, ব্যর্থ হয়ে দুদকে চিঠি

প্রতিবেদক
Nirob
August 21, 2025 7:23 pm

নোয়াখালীতে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের জেলা সভাপতি ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। তাও আবার ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’এর প্যাডে দুদকে এ চিঠি দেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন আবুল কালাম আজাদ। দুদকে পাঠানো চিঠিতে লেখা অভিযোগগুলোর শুরুতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নোয়াখালী জেলা ইউনিটের অফিশিয়াল প্যাডে দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। একইসঙ্গে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার কারসাজি, ঘুষ গ্রহণ, ভুয়া বিল প্রদর্শন ও অতিরিক্ত দামে কাজ পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের হয়রানি ও জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিল উত্তোলন ও জামানত ছাড় করার সময় শতকরা ৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এভাবে প্রতি প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া কিছু কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের কোটেশন কমানো বা বাড়ানোর মাধ্যমে ‘সেটিং’ করে টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়।

চিঠিতে ‘এই দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’ উল্লেখ করে  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

চিঠিটির প্রথম পয়েন্টে মুক্তিযোদ্ধা দলের এই নেতা উল্লেখ করেন, গত ১১ আগস্ট তিনি স্থানীয় ছনখোলা দরবেশ সাহেবের মাজারের জন্য একটি পানির প্রকল্পের আবেদন নিয়ে গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।

সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজন জানান, ১১ আগস্ট দুপুরে আবুল কালাম আজাদ নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে একটি কাজের তদবির করেন। এতে আপত্তি জানালে প্রকৌশলীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। সেইসঙ্গে প্রকৌশলীকে গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে আবুল কালাম ফোন করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সেখানে আনলে তারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রধান ফটক আটকে মব সৃষ্টি করেন। এ অবস্থায় প্রকৌশলী পুলিশকে জানালে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। একই সময়ে বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত হন। পরে দুই পক্ষের সমঝোতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সেদিন সমঝোতা বৈঠকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, যুবদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারাও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দুদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন।

ব্যক্তিগত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্যাডে চিঠি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক তাই ওই সংসদের প্যাডেই দুদকে চিঠি দিয়েছি। সেদিন নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে সম্মান না দেওয়ায় গালিগালাজ করেছি। তিনি যখন আমাকে পুলিশের ভয় দেখিয়েছিলেন তখন আমার লোকজন উত্তেজিত হয়েছিল এটা সত্য। আমরা গত ১৭ বছর কোনও দফতরে যেতে পারিনি। এখনও যদি সরকারি কর্মকর্তারা আমাদের কথা না শোনেন তাহলে আর কখন শুনবেন।’

এ বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সর্বশেষ - চাকরি

আপনার জন্য নির্বাচিত