গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যবসায়ীকে আটকের পর র্যাব-১ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ছিনিয়ে নেওয়া সেই আসামির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র্যাব। তবে এখনও ওই ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি। রবিবার বিকালে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তা এলাকায় র্যাবের গাড়ি আটকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সহযোগী ও স্থানীয় লোকজন।
ছিনিয়ে নেওয়া ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন শ্রীপুর উপজেলার বরমী মধ্যপাড়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে। তিনি বরামা চৌরাস্তা এলাকায় অটোরিকশার পার্টসের ব্যবসা করেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে র্যাব-১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সালমান নূর আলম প্রেস রিলিজ দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়, রবিবার র্যাব-১ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্যের বড় চালান কেনাবেচা করছে। এমন খবরে র্যাবের একটি টিম বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তায় মোশারফ হোসেনের অটো গ্যারেজে অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি দেখে মোশারফ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় র্যাবের সদস্যরা মোশারফকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেন। তাকে অস্ত্রসহ আটকের খবরে আশপাশের লোকজনসহ বরামা চৌরাস্তা এলাকার দেড়শ জনতা একত্রিত হয়ে মব সৃষ্টি করে। তারা র্যাবের গাড়ি ভাঙচুরসহ সদস্যদের মারধর করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা র্যাবের কাছ থেকে আটক মোশারফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে তার কাছ থেকে উদ্ধার পিস্তল-ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নিতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র্যাবের ওপর হামলা এবং আটক মোশারফকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়।
তারা হলেন- ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিদিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাফুয়াত হোসেন (২৩), হালুয়াঘাট উপজেলার নাগলা বাজার ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২৫), কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন আকিব (২৩), শ্রীপুর উপজেলার বরমী মধ্যপাড়া গ্রামের আলালের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০), মৃত আজিজুল হকের ছেলে সফিজুল হক (২৮), মৃত আনছার রহমানের ছেলে মাসুদ (৪৮), আহম্মদ আলীর ছেলে মোফাজ্জল (২৭), রফিকের ছেলে মারুফ (১৮), শহিদুল্লাহর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (২৫), মৃত আরসক আলীর ছেলে সাহেব আলী (৫৫), সাগরের স্ত্রী আঞ্জুমান (২১), মোশারফ হোসেনের স্ত্রী স্মৃতি (২৮), পাশের কাওরাইদ গ্রামের আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে শাহজাহান (৪২) এবং সিলেটের দোয়ারাবাজার উপজেলার গাজগড্য গ্রামের রূপ মিয়ার ছেলে সাগর (২৩)।
এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে র্যাব-১ উত্তরা সদরের ওয়ারেন্ট অফিসার মো. জাফর ইকবাল বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আটক ১৪ জনকে বিকালে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ ১৪ জনকে সোমাবার দুপরে থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব। বিকালে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’










