জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছে তিস্তা রক্ষা আন্দোলন। রবিবার দুপুরে রংপুরের ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে দাবি মানা না হলে রংপুরসহ এ অঞ্চলের পাঁচ জেলা লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে বৃষ্টির মধ্যে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষসহ শত শত মানুষ রংপুর নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা অফিস চত্বরে সমবেত হন। পরে মিছিল নিয়ে রংপুরের ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
ডিসি অফিস চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য দেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম ফেইজের কাজ শুরু হবে। কিন্তু আগামী বছরের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নভেম্বর মাস থেকে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সে কারণে আমরা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগেই কাজ শুরু করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আজ রংপুরসহ এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর রংপুর অঞ্চলের সব উপজেলায় বিক্ষোভ এবং ১৬ অক্টোবর তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৩৬ কিলোমিটার ব্যাপী এলাকায় মশাল প্রজ্বালন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। তার পরেও দাবি মেনে নেওয়া না হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।’
সমাবেশ শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান বরাবর দাবি সংবলিত স্মারকলিপি রংপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়। এ সময় তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের নেতা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু ও সদস্যসচিব মাহফুজুন্নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্যসচিব আনিসুল ইসলাম লাকুসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।













