Swadhin News Logo
শনিবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. best
  2. cassinoBR
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কৃষি ও প্রকৃতি
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. জোকস
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নারী ও শিশু
  14. প্রবাস
  15. বই থেকে

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে শীর্ষ পর্যায় বৈঠক

প্রতিবেদক
Nirob
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে শীর্ষ পর্যায় বৈঠক

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে শীর্ষ পর্যায় বৈঠক

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন রাষ্ট্রদিবসে উপস্থিত থাকবেন। আলোচনা সূচিতে প্রধান বিষয় ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা দুই দশক ধরে চলা আলোচনার সমাপ্তি টানার দিকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2026-01-24

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের আয়োজনে আগামী সোমবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন।

বিবিসি লিখেছে, রাষ্ট্রীয় ভোজ ও আনুষ্ঠানিক আড়ম্বরের পাশাপাশি এ দুই নেতার আলোচ্যসূচিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকবে—এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া।

ইউরোপের জন্য এটি এমন এক সময়, যখন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ জোরদার করার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পরে অবশ্য সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি।

বিবিসি লিখেছে, ইউরোপীয় অতিথি নির্বাচনের মাধ্যমে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে—ভারতের উপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা নতুন বছরেও চলায় দিল্লি বাকি বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত জোরদার করছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের শীতেজ বাজপেয়ী বিবিসিকে বলেন, “ভারত যে একটি বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরশীল নয় তার ইঙ্গিত দিচ্ছে এ পদক্ষেপ।”

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এ চুক্তি ঘোষণা হতে পারে। ফন ডার লিয়েন এবং ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল দুজনেই একে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন—যা প্রায় দুই দশক ধরে চলা কঠিন আলোচনার সমাপ্তি টানার গুরুত্বকে তুলে ধরছে।

এ চুক্তি কার্যকর হলে এটি হবে চার বছরের মধ্যে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ); এর আগে যুক্তরাজ্য, ওমান, নিউ জিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আর ব্রাসেলসের জন্য এটি সাম্প্রতিক মেরকুসুর বাণিজ্য জোটের চুক্তির ধারাবাহিকতা। এর আগে তারা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে।

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সুমেধা দাশগুপ্ত বলেন, “ভূরাজনৈতিক হুমকির কারণে বাণিজ্য পরিবেশ অস্থির হয়ে উঠেছে, ফলে উভয় পক্ষই এখন নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার খুঁজছে। ভারতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব কমানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো—এই দুই লক্ষ্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, “এই চুক্তি ভারতের দীর্ঘদিনের কড়া সুরক্ষাবাদী নীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবেও চিহ্নিত হবে।”

জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে এ বছরই জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে ভারত।জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে এ বছরই জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে ভারত।

 

এ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য কী নিয়ে আসছে?

বিবিসি লিখেছে, ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির কারণে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি এবং এ বছরই জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় ফন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের যৌথ বাজার গড়ে উঠলে তা হবে দুই বিলিয়ন মানুষের মুক্ত বাজার, যা বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করবে।

দিল্লির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। এ চুক্তির মাধ্যমে ‘জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস’ (জিএসপি) সুবিধা পুনরুদ্ধার হবে। এ সুবিধার আওতায় ইইউ বাজারে উন্নয়নশীল দেশের পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে থাকে।

দিল্লিভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ৬১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল।

“কিন্তু ২০২৩ সালে ইইউ জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করায় অনেক ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হারানো বাজার ধরাতে সহায়তা করবে; পোশাক, ওষুধ, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও যন্ত্রপাতির মতো প্রধান রপ্তানিতে শুল্ক কমাবে এবং মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে ভারতীয় ফার্মগুলোকে সাহায্য করবে।”

তবে ভারত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোকে এই চুক্তির বাইরে রাখতে চাইবে। গাড়ি, মদ ও স্পিরিটসের মতো ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো হতে পারে—যা আগের চুক্তিগুলোতেও (যেমন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে) অনুসরণ করা হয়েছে।

শীতেজ বাজপেয়ী বলেন, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার পর্যায়ে সরিয়ে রেখে ধাপে ধাপে বাণিজ্য চুক্তি করাই ভারতের প্রবণতা। ফলে এ চুক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতীকী গুরুত্ব অর্থনৈতিক বিষয়বস্তুর মতোই গুরুত্বপূর্ণ।”

ট্রাম্পের শুল্কের কারণে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা গতি পেয়েছে।ট্রাম্পের শুল্কের কারণে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা গতি পেয়েছে।

 

অবশ্য অগ্রগতি হলেও কিছু গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ইউরোপের জন্য মেধাস্বত্ব সুরক্ষা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তারা উন্নত তথ্য সুরক্ষা ও আরও কঠোর পেটেন্ট নীতির দাবি জানাচ্ছে।

ভারতের ক্ষেত্রে এ বছর থেকে ইউরোপে চালু হওয়া নতুন কার্বন কর—সিবিএএম (কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম) আলোচনার একটি বড় বিতর্কের জায়গা।

শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারতীয় রপ্তানির ক্ষেত্রে সিবিএএম কার্যত নতুন সীমান্ত শুল্কের মতো কাজ করে, এমনকি যদি এফটিএ’র আওতায় আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া হলেও।

“এটি বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ক্ষতিকর; কারণ তাদেরকে উচ্চ কমপ্লায়েন্স খরচা, জটিল রিপোর্টিং এবং অতিরঞ্জিত নির্গমন মানের ভিত্তিতে জরিমানার ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।”

শ্রীবাস্তব বলেন, ‘এ চুক্তি শেষ পর্যন্ত ‘প্রবৃদ্ধি সহায়ক অংশীদারত্ব নাকি কৌশলগতভাবে অসম চুক্তি’ হবে, তা নির্ভর করবে উদ্বেগের বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হয়, তার ওপর।’

তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যালেক্স ক্যাপ্রি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অনির্ভরযোগ্য অংশীদারদের থেকে বাণিজ্যিক বিচ্ছিন্নতা ত্বরান্বিত করতে পারে। ফলে ঘনঘন পরিবর্তনশীল শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি কমবে।’

ক্যাপ্রির ভাষ্য, ‘ভারতের উচ্চ কার্বন নিঃসরণ এবং সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপে এ চুক্তির কিছু বিরোধিতা রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি তা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদনের পথ মসৃণ করতে পারে। এই অনুমোদন চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজন।’

সুমেধা দাশগুপ্ত বলেন, “২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে ইউরোপীয় নেতারা এখন এই বাণিজ্য চুক্তিকে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

© Bangladesh Journal

(function(i,s,o,g,r,a,m){i[‘GoogleAnalyticsObject’]=r;i[r]=i[r]||function(){
(i[r].q=i[r].q||[]).push(arguments)},i[r].l=1*new Date();a=s.createElement(o),
m=s.getElementsByTagName(o)[0];a.async=1;a.src=g;m.parentNode.insertBefore(a,m)
})(window,document,’script’,’https://www.google-analytics.com/analytics.js’,’ga’);
ga(‘create’, ‘UA-103843996-1’, ‘auto’);
ga(‘send’, ‘pageview’);

(function(i,s,o,g,r,a,m){i[‘GoogleAnalyticsObject’]=r;i[r]=i[r]||function(){
(i[r].q=i[r].q||[]).push(arguments)},i[r].l=1*new Date();a=s.createElement(o),
m=s.getElementsByTagName(o)[0];a.async=1;a.src=g;m.parentNode.insertBefore(a,m)
})(window,document,’script’,’https://www.google-analytics.com/analytics.js’,’ga’);
ga(‘create’, ‘UA-115090629-1’, ‘auto’);
ga(‘send’, ‘pageview’);

_atrk_opts = { atrk_acct:’lHnTq1NErb205V’, domain:’bd-journal.com’,dynamic: true};
(function() { var as = document.createElement(‘script’); as.type=”text/javascript”; as.async = true; as.src=”https://certify-js.alexametrics.com/atrk.js”; var s = document.getElementsByTagName(‘script’)[0];s.parentNode.insertBefore(as, s); })();

সর্বশেষ - চাকরি

আপনার জন্য নির্বাচিত