প্রায় ছয় বছর আগে ঢাকার হাজারীবাগে এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে তার স্ত্রী এবং ছেলের বন্ধুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার দশম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন– নিহত সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী শিল্পী বেগম এবং শিল্পীর ছেলের ঘনিষ্ট বন্ধু ফাহিম পাঠান।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান জানান, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় ফাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিল্পী বেগম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগের মধ্য বসিলা এলাকা থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, শিল্পী বেগম, তার ছেলে এবং ছেলের বন্ধু ফাহিম পাঠান এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৪ জুলাই শিল্পী বেগম ও ফাহিম পাঠানকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক হুমায়ন কবির।
শিল্পীর ছেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৭) হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়। পরে শিশু আদালতে তার বিচার শুরু হয়।
এদিকে অভিযোগপত্রে উঠে আসে, সোহেল ছিলেন শিল্পীর তৃতীয় স্বামী। তারা হাজারীবাগে থাকতেন। শিল্পীর ছেলেও তাদের সাথে থাকত। তবে সোহেল তাকে দেখতে পারত না, মাঝে মাঝে মারধর করত। তার মাকেও মারত। এ কারণে ছেলেটি তার বাবার কাছে বাগেরহাট চলে যায়।
তাকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন সোহেল। পরে ২০২০ সালের ২০ জুলাই সোহেল তাকে ফোন করে বাগেরহাটের মাজারে দেখা করে। তাকে ঢাকায় আসতে বলে এবং চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। ৩ সেপ্টেম্বর ছেলেটি ঢাকায় আসে।
চাকরি ও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয় নিয়ে তখন তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ১০ সেপ্টেম্বর শিল্পীর সঙ্গেও সোহেলের ঝগড়া হয়। শিল্পীকে মারধর করেন সোহেল। রাতে বাসায় ফিরে বিষয়টি টের পেয়ে যায় শিল্পীর ছেলে। সে বিষয়টি তার বন্ধু ফাহিমকে জানায়।
এরপর সোহেলকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে তারা। ১৩ সেপ্টেম্বর শিল্পী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার ছেলে ও ফাহিম বাসায় এসে শিল্পীকে বাসা থেকে চলে যেতে বলে।
পরে শিল্পী তার বোনের বাসায় মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং এলাকায় চলে যান। তার ছেলে ও ফাহিম তখন সোহেলের দুই পা বেঁধে, মুখ গামছা দিয়ে বাঁধে। মুখ বালিশ দিয়ে চেপে ধরে। পরে ছুরি দিয়ে গলাকেটে সোহেলকে হত্যা করে বলে তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য।
২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিল্পী বেগম ও ফাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায় দিল আদালত।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম














