বগুড়ার শাজাহানপুরে বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিন জন মারা গেলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।
শুক্রবার বিকালে শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার দুপুরে আরও দুজন মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মৃতরা হলেন– বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া সোনারপাড়া গ্রামের আবদুল হান্নান খোকার ছেলে নাছিদুল ইসলাম (২৭) এবং খোট্টাপাড়া পূর্বপাড়ার সুলতান মাহমুদের ছেলে আবদুল মানিক আকন্দ (৩০)। এর আগে মারা যান খোট্টাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত মাহবুবুর রহমান মণ্ডলের ছেলে মিজানুর রহমান মণ্ডল লিটন (৫০)। লিটন ওই ইউনিয়নের ২নং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য আলেয়া বেগমের স্বামী।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন হলেনÑ খোট্টাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবদুল্লাহ আল কাফী (৩০) এবং একই গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে আনসার সদস্য রঞ্জু মিয়া (৩০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার দশমীর দিন ২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া মধ্যপাড়া সনাতন ধর্মশালা পূজা মণ্ডপের পাশে বেলতলা এলাকায় মিজানুর রহমান মণ্ডল লিটন, নাছিদুল ইসলাম, আবদুল মানিক আকন্দ, আবদুল্লাহ আল কাফী ও আনসার সদস্য রঞ্জু মিয়া একসঙ্গে মদপান করেন। বাড়িতে ফেরার পর ৩ অক্টোবর সকাল থেকে তাদের বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, পূজার আনন্দে তারা মদপান করায় শরীর অসুস্থ হয়েছে। স্বজনরা অসুস্থ অবস্থায় পাঁচ জনকে পর্যায়ক্রমে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ অক্টোবর রাতে মিজানুর রহমান মণ্ডল লিটন মারা যান। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নাছিদুল ইসলাম ও শুক্রবার দুপুরে আবদুল মানিক আকন্দ মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবদুল্লাহ আল কাফী রঞ্জু মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, মৃত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।














