ঢাকার আশুলিয়ায় দলিল লেখকদের আন্দোলনের কারণে জমির দলিল সম্পাদন কার্যক্রমে কার্যত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে জমি কেনাবেচা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। বিপাকে পড়েছেন জমি কেনাবেচায় সম্পৃক্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এক মাস ধরে দলিল লেখার কাজ বন্ধ রেখেছেন দলিল লেখকরা। এতে অফিসটির স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি যারা নিজ উদ্যোগে অন্যত্র দলিল লিখে তা সম্পাদনের জন্য অফিসে আসছেন, তাদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল পাল্টা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ সুবিধা না পাওয়ায় কিছু দলিল লেখক তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি বলেন, ‘আশুলিয়া দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী কক্ষ জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি পে-অর্ডার করতেও বাধা দিচ্ছে। অন্য জায়গা থেকে দলিল লিখে সম্পাদন করতে আসায় আমির হোসেন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়েছে। প্রায়ই সংঘবদ্ধভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে অচলাবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আলমগীর হোসেন ভুয়া খাজনার কাগজ দেখিয়ে একটি দলিল সম্পাদনের চেষ্টা করেন। আমি সেটি গ্রহণ না করায় এবং তার নানা অনৈতিক দাবির কাছে নত না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।’
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানিয়েছেন, আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলমগীর হোসেন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সে সময় বিপুল বিত্ত-বৈভব গড়ে তোলেন। বর্তমানে আবার সেই প্রভাব ফিরে পেতে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অচলাবস্থা সৃষ্টি করছেন।
ভুক্তভোগী সেবাপ্রত্যাশীরা জানান, গত ১৭ জুন থেকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই সংকট চলমান। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আশুলিয়া দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রার পাভেলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তার অপসারণ চাই।’
















