ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে অস্বাভাবিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও এক হালির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তি হিসেবে ফলন ও সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে হালিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের পাতিলেবুর হালি চাওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা। মাঝারি আকৃতির হলে প্রতি হালিতে বিক্রেতারা চাইছেন ১২০ টাকা পর্যন্ত। আর বড় লম্বা আকৃতির লেবুর হালি চাওয়া হচ্ছে দেড়শ টাকাও।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাগান মালিক ও আড়তদাররা রমজানে আরও বেশি লাভের আশায় লেবু ধরে রাখছেন, ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। দামও বাড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, এখন লেবুর মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সেজন্য দাম বেড়েছে।
দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী মো. রিপন বলেন, রোজা আর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে লেবুর দাম বাড়ছে। সরবরাহ না থাকায় লেবু কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। আর লেবু আনতেছিও কম।
যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বিক্রেতা সোহেল বলেন, লেবুর ফলন কম; মোকামে দাম বেশি। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
যাত্রাবাড়ীতে লেবু কিনতে আসা মো. সেলিম মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, লেবুর এত দাম! রোজার সময় তো আরও বাড়বে। মধ্যবিত্তদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।
যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় নিয়মিত লেবু বিক্রি করেন মো. আবুল বাশার। তবে দাম বাড়ার কারণে কয়েক দিন যাবৎ লেবু আনছেন না তিনি।
আবুল বাশার বলেন, লেবুতে আগুন লাগছে। ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালি। ৫০টা লেবু কিনতে গেছি; ১০০ টার নিছে বেঁচবে না। এত লেবু এনে ক্রেতাও পাওয়া যায় না।
মারুফ হাসান নামে এক সংবাদকর্মী বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থেকে যে লেবুর হালি কিনেছি ৩০ টাকায়, সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। রোজায় আরও দাম বাড়লে তো সাধারণ জনগণ সমস্যায় পড়ে যাবে। ইফতারে তো লেবুর শরবত লাগেই।
লেবুর পাশাপাশি কাঁচামরিচের দরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গতকাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এমপি

















