পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজ বসতঘর থেকে এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারপুর গ্রামে নদীর তীরের ঝুপড়ি ঘর থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত দম্পতি হলেন সিরাজ উদ্দিন খান (৭৫) ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৬০)। সিরাজের বাড়ি মহিপুর থানার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে, আকলিমার বাড়ি পেয়ারপুর গ্রামে। তিনি সিরাজের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে আন্ধারমানিক নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। নদীর তীরে একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেয়ারপুর গ্রাম সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সিরাজ। নদীর তীরে একটি ঝুপড়িতে তৃতীয় স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজে না যাওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ভোর ৬টার দিকে ওই বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। অনেক ডাকাডাকি পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা ঘরে ঢোকেন। সেখানে চৌকির ওপর আকলিমা ও মেঝেতে সিরাজ উদ্দিনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
ওই গ্রামের বাদল তালুকদারসহ একাধিক বাসিন্দার দাবি, সিরাজের গলার নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ ও আকলিমার শরীরে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন তারা।
পুলিশ জানায়, সিরাজের গলার নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের মেঝেতে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আকলিমার শরীরেও রক্তের দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে সিআইডি। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’













