জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে করা মামলায় আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে দুদক। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. কবির হোসাইন।
পিপি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুর রহমান আবেদনটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য আগামী ৫ অক্টোবর দিন রেখেছেন। এর আগে গত ১৩ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।’
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন ফজলে করিম চৌধুরী। এ ছাড়া ১২টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনকভাবে ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ জন্য দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এমপি ফজলে করিমের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলে সংসদ সদস্য পদ হারান ফজলে করিম চৌধুরী। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। এরপর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে একটি হেলিকপ্টারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে।

















