সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পানির ট্যাংকের পলেস্তারা খসে পড়ে হাসপাতালের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ২টার দিকে মেডিক্যাল কলেজের শাহজালাল ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কর্মচারীর নাম মো. সুমন হোসেন (৩৯)। তিনি হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে (চুক্তিভিত্তিক) কর্মরত ছিলেন। মাগুরার শ্রীপুরের বিলনাথুর এলাকার মো. ইসলাম হোসেনের ছেলে সুমন। থাকতেন ওসমানী মেডিক্যাল মসজিদ কোয়ার্টারে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সুমন রবিবার রাতে দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে কাজ শেষ করেন। বেলা ২টার দিকে কলেজের শাহজালাল ছাত্রাবাসের পাশে একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা একটি পানির ট্যাংকের পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে। এতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে সুমন হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় বিকাল ৩টার দিকে বিক্ষোভ করেছেন হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত কর্মচারীরা। পরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফটকে অবস্থান করে সুমনের মৃত্যুর ঘটনাকে অবহেলায় মৃত্যু দাবি করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতিও পালন করেন কর্মচারীরা।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা মেরামত বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। এরই ফলে এই দুর্ঘটনায় একজন সহকর্মীর মৃত্যু হলো। তারা বলেন, সুমনের মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, অবহেলার কারণে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সংস্কারের দাবি জানান তারা।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, বিষয়টি তিনি সিলেট গণপূর্ত বিভাগকে অবহিত করেছেন। পানির ট্যাংকটি পুরোনো। তবে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। আজকের ঘটনার পর জায়গাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই এলাকায় যাতে মানুষজন যাতায়াত না করেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ট্যাংকের পলেস্তারা খসে সুমনের মাথায় পড়লে মৃত্যু হয়। লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











