গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারের পক্ষে রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে জানানো দাবিগুলো হলো: ১. অভিযোগ ওঠা নকল প্রবন্ধটি অবিলম্বে ‘প্রগ্রেসিভ এগ্রিকালচার’ সাময়িকী থেকে প্রত্যাহার করা; ২. অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও একাডেমিক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ৩. দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদান।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড. বাশারের অভিযোগ, তার ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘ঢাকা শহরের কিছু নির্বাচিত পার্ক ও বাগানে মশার পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক মৌলিক গবেষণাপত্র হুবহু নকল করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে মশার প্রজাতির বৈচিত্র্য’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়। এই প্রবন্ধের লেখক ছিলেন নিপসমের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ।
অধ্যাপক বাশার জানান, বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রবন্ধটির সারসংক্ষেপ, সারণি, চিত্র, মানচিত্র, সূত্র এবং মূল পাঠ্যাংশ প্রায় শব্দে শব্দে অনুলিপি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্পষ্ট ও ইচ্ছাকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের চুরি। এটি কোনও অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়।’
অন্যদিকে, গোলাম সারোয়ার রিপোর্টে নিজেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তিনি কখনোই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিপসমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিষয়ে শেকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘২০১৭ সালে আমার এক পিএইচডি শিক্ষার্থী একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে, যেখানে আমাকে না জানিয়ে সহ-লেখক হিসেবে নাম ব্যবহার করা হয়। ওই গবেষণার সঙ্গে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।’
















