গাজীপুরের শ্রীপুরে সাংবাদিক শিহাব খানের পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন নূরুল আলম নামে এক বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে ওই সাংবাদিক শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, ‘সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।’
শিহাব খান বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজ এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের শ্রীপুর প্রতিনিধি হিসেব কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত নূরুল আলম শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) এবং ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য।
সাংবাদিক শিহাব খান বলেন, ‘গাজীপুর গ্রামের বাবুলের বাড়ির সড়কে ইটের সলিংয়ের কাজ চলছে। সেখানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় সড়কের কাজের ভিডিও ধারণ করি। খবর পেয়ে নূরুল আলমের ছেলে কাজল আমার মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে পরিচয় দেন। তারা কাজ করাচ্ছেন জানান। তখন সঙ্গে থাকা নূরুল আলম ছেলের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে বলেন, “আমার এলাকায় দেখলে পায়ের নালা ভেঙে দেবো। ছয় নম্বর ইট দিয়ে সড়ক করলে তোর (সাংবাদিক) সমস্যা কী? শ্রীপুর থানার মধ্যে যেখানে তোকে পাবো মাইরা পা ভেঙে দেবো।” এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নূরুল আলম ও তার ছেলেকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নূরুল আলমের তত্ত্বাবধানে ওই সড়কে ইট সলিংয়ের কাজ চলছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ছাড়া সড়কটি দিয়ে একমাত্র বাবুলের বাড়ির লোকজনই চলাচল করতে পারবে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ না থাকায় বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান স্থানীয়রা।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নূরুল আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয় দুই সাংবাদিককে বলেছেন, ‘আমি রাগের মাথায় ওই কথা বলে ফেলেছি। সড়ক নির্মাণকাজে কোনও ধরনের নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছি না। সাংবাদিক আমাকে না জানিয়ে ওপরের স্যারদের বিষয়টি জানিয়ে দেন। এজন্য রাগের মাথায় পা ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছি।’
হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে শ্রীপুর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম সানি বলেন, এমন হুমকি দিতে থাকলে আমরা সাংবাদিকরা কোথায় যাবো? আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে? এ ঘটনার বিচার চাই আমরা।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও শ্রীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

















