নাটোর চিনিকলে ৬৯৩০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৪২তম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকালে চিনিকলের কেইনে ক্রেরিয়ার ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপ করে মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ, বাণিজ্যিক) আজহারুল ইসলাম।
জানা গেছে, গত ২ আগস্ট ডাকাতরা চিনিকলটির প্রহরীদের বেঁধে রেখে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নেয় ডাকাত দল। সে ক্ষতির পরও শঙ্কা কাটিয়ে এটি নির্ধারিত সময়ে চালু হওয়ায় দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়েছেন কৃষকরা।
তারা জানান, চিনিকলটি চালু না হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতেন চাষিরা। নির্ধারিত সময়ে আখ কাটা না হলে সাথি ফসল রোপণ করা সম্ভব হতো না। এ ছাড়া মাড়াইয়ের আখ বিক্রি না হলে বিপাকে পড়তেন।
নাটোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইতেখায়ের আলম, নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কৃষিবিদ আখলাছুর রহমান, নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা হাবিবুর ইসলাম হেলাল, কর্মকতা, সিবিএ নেতারা ও আখ চাষিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নাটোর চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৭৪ কার্যদিবসে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৬৯৩০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৩ ভাগ। নাটোর চিনিকলের আটটি সাবজোনের ৪৮ কেন্দ্রের অধীনে আখ সরবরাহ করা হবে। এর আগে সাবজোনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত আখ চিনিকলে সরবরাহের জন্য প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়।
অপরদিকে চলতি বছরের ২ আগস্ট ডাকাতরা চিনিকলটির প্রহরীদের বেঁধে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতির পর ৩ আগস্ট নাটোর চিনিকলের পক্ষ থেকে নাটোর থানায় মামলা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধার করতে পারেনি। মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তবে সিআইডি এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার ও ডাকাতদের ভাড়া করা ট্রাক জব্দ করলেও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করতে পারেনি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, চুরি হওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধার না হওয়ায় এত অল্প সময়ের সেগুলো কেনা সম্ভব না। তাই দেশের বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো থেকে যন্ত্রাংশ ধার নিতে হয়েছে।
নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কৃষিবিদ আখলাছুর রহমান বলেন, নাটোর চিনিকলে ৪২ তম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হলেও এ মিলে আখ সরবারহের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।
তিনি বলেন, ডাকাতি হওয়া যন্ত্রাংশগুলোর অধিকাংশই তামার। তাই এগুলো দ্রুত কেনা করা সম্ভব না। ফলে বন্ধ থাকা অন্য চিনিকল থেকে যন্ত্রাংশ ধার করেই আখ মাড়াইয়ের কাছ শুরু করা হয়েছে।
















