জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার, বাংলাদেশের সিস্টেমগুলো সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা যদি অন্য কোনও কিছুর চিন্তা করি তা হবে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। আমরা সবাই একসঙ্গে বিচার, সংস্কার ও জুলাই সনদের জন্য লড়ে যাবো এবং অবশ্যই আমরা এটি আদায় করে নিয়ে আসবো ইনশাল্লাহ।’
বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে জুলাই অভুত্থানে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যার বিচার প্রসঙ্গে এ সময় বলেন, ‘জুলাই অভুত্থানে যারা শহীদ পরিবার ছিল, আহত যোদ্ধা ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের মায়েদের কান্না করতে করতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। আমাদের মায়েরা এখন আর কান্না করতে পারেন না। এখনও তারা কান্না করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
‘এক বছর তো হয়ে গেলো, আমরা আরেক জুলাইয়ে এসেছি। কিন্তু আমরা এখনও দৃশ্যমান বিচার দেখছি না। যতটুকু বিচারের অগ্রগতি হওয়া দরকার ছিল, আমরা তা দেখছি না। এই অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে-কেউ এ ঘটনার জন্য দায়ী।’
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে যারা সরাসরি জড়িত, খুনি হাসিনা থেকে শুরু করে তার যে দোসররা নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে ছিল তাদের দৃশ্যমান বিচার, রায় এবং কার্যকর করতে হবে। এর আগে এ দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসিফ নজরুল স্যার থেকে শুরু করে যারাই রয়েছেন, তারা যেন অন্য কোনও কিছু চিন্তা না করেন। তারা অন্য কিছু চিন্তা করলে আমাদের এই শহীদ মায়েদের ওপর দিয়ে তাদের যেতে হবে।’
এনসিপির এ নেতা জুলাই সনদের বিষয়ে বলেন, ‘আজ থেকে কয়েক বছর পর কেউ অন্য কোনোভাবে ট্যাগিং করবে কিনা এ বিষয়ে শহীদদের মায়েরা অনিশ্চিত। তারা এ নিশ্চয়তার জন্য জুলাই সনদ চায়। তারা সংবিধানে জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্তি চায়।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন– এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব ইশরাত জাহান বিন্দু, এনসিপি চাঁদপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক তামিম খান, সদস্য সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর সদরের যুগ্ম সমন্বয়ক মুফতি মাহমুদুল হাসান, যুবশক্তির সংগঠক মেহেদী হাসান তানিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থক।










