চাকরিচ্যুতি অবৈধ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে হাজারো চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা এই কর্মসূচি পালন করেন। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঢাকা পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা টার্মিনেশন অবৈধ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রার্থনা জানানো হয়।
পাঁচ হাজারের মতো কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার পর সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংক নতুন করে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। শনিবার (১ নভেম্বর) ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়োগের এই উদ্যোগকে ‘অন্যায়’ এবং ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা মানববন্ধন থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা এস এম এমদাদ হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, পদোন্নতি– সবকিছু পেয়েছি যোগ্যতার ভিত্তিতে। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। সম্পূর্ণ বেআইনি পথে বর্তমান বোর্ড যা ইচ্ছা তাই করছে। আমরা আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে চাই।’
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় যারা অংশ নেবেন, তারা আমাদের ভাই-বোন। আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাদের পথে বসানো হয়েছে। আপনাদেরও একই পরিণতি হতে পারে। তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেবেন না।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মোক্তার হুসেন রসিদ ও মোহাম্মদ হুমায়ুনসহ অন্য কর্মকর্তারা। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়, আপনি আমাদের চট্টগ্রামের সন্তান। আপনি দেখেছেন চট্টগ্রামের সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার আজ চাকরি হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে আছে। চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে আজ হাহাকার। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে আপনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। আপনার কাছে আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।’
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা জানান, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

















